জিহাদি মিশন থেকে রুখতে ১৬ বছরের বি কে পরিবার থেকে আলাদা করলেন বিচারপতি
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, শনিবার, আগস্ট ২২, ২০১৫


জিহাদি মিশন থেকে রুখতে ১৬ বছরের বি কে পরিবার থেকে আলাদা করলেন বিচারপতি

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে


লন্ডন হাইকোর্ট ডিভিশনের ফ্যামিলি কোর্টের বিচারপতি হেইডেন আজ এক রুলে ১৬ বছরের আরো এক ছাত্রীকে সম্ভাব্য আইএস জিহাদিদের খপ্পড় থেকে রক্ষা করার জন্য পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তথা স্ট্যাটুটোরি এজেন্সির তত্বাবধানে রাখার রুল জারি করেছেন।

বিচারপরি হেইডেন তার রুলে লিখেছেন এই ছাত্রী ইমোশনালি এবং সাইকোলজিক্যালি কষ্টের মধ্যে ছিলো, সে তার পিতা মাতার সাথেও ধোকা দিয়েছে ।

পুলিশ বাসা তল্লাশি করার সময়ে কম্পিউটরের মধ্যে কিভাবে জিহাদি ট্রেনিং, মাথা কর্তন, এবং গোয়েন্দা নজরদারি এড়ানো যায়- এমন সব গাইডের তথ্য সম্বলিত ফাইল পেয়েছে, একই সাথে পিতা-মাতার কম্পিউটরের মধ্যেও পাওয়া গেছে।

এই ছাত্রী সিরিয়া ভ্রমণের চেষ্টা করছিলো জিহাদি হয়ে জিহাদিষ্টকে শাদি করার জন্য।

বিচারপতি হেইডেন বলেছেন, এই ছাত্রীকে নিরাপদ করার জন্যই তাকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। ছাত্রীর নাম প্রকাশ করা হয়নি, শুধু মাত্র বলা হয়েছে সে বি নামে পরিচিত।

পুলিশ তাদের ইষ্ট লন্ডনের ফ্ল্যাট তল্লাশি করে এক্ট্রিমিষ্ট লেকচারের যে সব কপি তাদের ডিভাইসে পেয়েছে, তাতে পুলিশ অবগত উভয়ই কম্পিউটর ডিভাইসে একে অন্যের সাথে এই সব এক্সট্রিমিষ্ট লেকচার শেয়ার করেছেন।

গত ডিসেম্বরে সে সিরিয়া যেতে চেয়েছিলো, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তার্কি যাওয়ার পথে হিথরো থেকে রানিং করার সময়ে তার ফ্লাইট রিটার্ণ করে তাকে নামিয়ে এনেছিলো।তার পিতা মাতা পুলিশের সাথে সহযোগিতা করছেন এবং শেষ মুহুর্তে তার মা পুলিশকে জানিয়েছিলেন সে সিরিয়া যাচ্ছে।
কোর্টে হিয়ারিং চলাকালে তার পিতা-মাতা উপস্থিত ছিলেন এবং কোর্টকে তারা জানিয়েছেন তারা তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন মেয়েটিকে আইএস এর প্রোপাগান্ডা থেকে ফেরাতে।

পুলিশ কোর্টকে অবহিত করেছেন, মেয়েটি তার কম্পিউটরের মাধ্যমে ৪৪বার আইএস তথ্য কিভাবে এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি চোখ ফাঁকি দেয়া যায়, এক্সট্রিমিষ্ট লেকচার, হত্যা ইত্যাদি সহ, গোয়েন্দাদের নজর ফাঁকি এই সব আইএস নির্দেশনা ডাউনলোড করেছে।

বিচারপতি হেইডেন মেয়েটির বিভিন্ন ইস্যু এবং ভবিষ্যতে মেডিসিন নিয়ে লেখা পড়ার উচ্চ প্রশংসার সাথে নির্দেশনা দিয়েছেন তাকে প্রটেক্ট করা উচিৎ তার নিরাপত্তা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বার্থে।সব শেষে বিচারপতি আইএস প্রপাগান্ডা থেকে বাচাতে পুরো পরিবারের পাসপোর্ট স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন। মেয়েটির অন্যান্য ভাইবোন সহ পিতা মাতাকে পুলিশ পরে ছেড়ে দিয়েছে।

২১শে আগস্ট ২০১৫ ।