আইএসে শারমিনা বেগম- ডেইলি মেইলের অঙ্গুলি ইষ্ট লন্ডনের দিকে
লন্ডন এইদেশ রিপোর্ট, রবিবার, আগস্ট ০২, ২০১৫


ডেইলি মেইলের প্রতিবেদন-প্রসঙ্গঃ শারমিনা বেগমের আইএস এ যোগদান
ইষ্ট লন্ডন মস্ক এবং ইসলামিক ফোরাম ইউরোপ, সিস্টার ফোরাম বা মুসলিমাহকে আইএস র্যা ডিকালাইজেশনের জন্য দুষলো


সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে


ব্রিটেনের বহুল প্রচারিত ইংরেজি দৈনিক ডেইলি মেইল তাদের অনলাইন ভার্সনে আইএস সন্ত্রাসী সংগঠনে ব্রিটিশ বাংলাদেশী টিনএজদের ব্রেন ওয়াশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বা জিহাদি হতে সিরিয়া গমনে উদ্বুদ্ধ করনের জন্য হোয়াইট চ্যাপেলের বুকে মুসলমানদের গর্বভরে, বুক উঁচু করে দাঁড়ানো, ইষ্ট লন্ডন মস্ক এবং এই মসজিদ কেন্দ্রিক সংগঠন ব্যাপক জনপ্রিয় দাওয়াতুল ইসলামের সিস্টার সংগঠণ ইসলামিক ফোরাম ইউরোপ ও তাদের মহিলা সংগঠন সিস্টার মুসলিমাহকে সরাসরি দুষে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর আইএসে যোগদানের জন্য সিরিয়া গমন করেছিলো বেথনাল গ্রিন একাডেমির টিনএজ ছাত্রী শারমিনা বেগম।শারমিনা বেগমের মা শাহনাজ বেগম(৩৩) দুরারোগ্য ক্যানসার রোগে মৃত্যু বরন করলে শারমিনা বেগম হতবিহবল এবং মাকে হারিয়ে একেবারে ভেঙ্গে পরে।মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শারমিনা বেগম তখন ইষ্ট লন্ডন মসজিদের আইএফই`র মহিলা ফোরামের সার্কেলের সাথে জড়িয়ে ইষ্ট লন্ডন মসজিদে নিয়মিত যাতায়াত করে। তখন থেকে তার মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সে হিজাব পড়া, ইত্যাদি শুরু করে । “ডেইলি মেইলের কাছে শারমিনার পরিবারের দাবী ইষ্ট লন্ডন মস্কের এই ফোরামের সার্কেলে বেড়ে উঠে শারমিনা কট্ররপন্থা আর জঙ্গি জিহাদি তালিমে মগজ দোলাই হয় এবং তাকে বলা হয় সে জিহাদে মৃত্যু বরন করলে তার মায়ের সাথে জান্নাতে দেখা পাবে”।

ডেইলি মেইলের কাছে শারমিনার বাবা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন(৩৮) বলেছেন, স্ত্রীর মৃত্যুর পর শারমিনা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং ইষ্ট লন্ডন মসজিদে ঘন ঘন আসা যাওয়া করে। এই পরিবর্তন তার কাছে সন্দেহের সৃস্টি করে এবং তা তিনি পুলিশকেও বলেছেন। কিন্তু তিনি সরাসরি ইষ্ট লন্ডন মস্ককে দুষ দিতে নারাজ।

শারমিনার মামা,চাচারা সরাসরি সেজন্যে ইষ্ট লন্ডন মসজিদ কেন্দ্রিক ইসলামিক ফোরামকে দুষ দিয়েছেন। তারা সরাসরি বলেছেন, এরাই জান্নাতের লোভ দেখিয়ে শারমিনাকে সিরিয়া পাঠিয়েছে, জিহাদী সন্ত্রাসীদের কাছে দিয়েছে।

ডেইলি মেইল ইসলামিক ফোরাম ইউরোপ ও ইষ্ট লন্ডন মসজিদের কথা লিখতে গিয়ে বলেছে, এই ফোরামের নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশ থেকে আসা ১৮টি মার্ডারের আসামী, ওয়ার ক্রিমিন্যাল। ডেইলি মেইল এটাও লিখেছে, কট্রর পন্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার ও বিবৃতি প্রদানের জন্য ইষ্ট লন্ডন মস্কের সুনামও রয়েছে।

তবে আইএফই ডেইলি মেইল, সানডে মেইলের কাছে তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।

ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, শারমিনা বেগম প্রথমে নিজে সিরিয়া আইএসে গিয়েছে। তারপর সে গত বছর যে তিন টিনএজ আমিরা, খাদিজা, শামীমা- গেট উইক এয়ারপোর্ট হয়ে সিরিয়ায় আইএসে যোগ দেয়, সেই তিন মেয়েকে শারমিনাই ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে সিরিয়ায়। ঐ তিন মেয়ের ব্যাপারে প্রথমে ইন্টারনেট ভিত্তিক প্রপাগান্ডাকে দুষ দেয়া হলেও পরে প্রমাণিত হয় শারমিনাই তাদেরকে নিয়ে গেছে সেখানে। আর সব কিছুর মূলে পরিবারের আত্মীয়স্বজনের দাবী ইষ্ট লন্ডন মস্ক ভিত্তিক মহিলা ইসলামিক ফোরাম ইউরোপ।

শারমিনার দাদী বলেছেন, শারমিনা কাপড় চোপড় খরিদের জন্য তার কাছ থেকে ৫০০পাউন্ড চেয়ে নেয়। মা হারা নাতিনকে তিনি কাপড খরিদের জন্য এই টাকা দিয়েছিলেন। পড়ে তদন্তে দেখা গেছে, এই ৫০০পাউন্ড দিয়ে শারমিনা বেগম তার্কিএ টিকেট খরিদ করে সিরিয়া যায়।

কিছুদিন আগে শারমিনা তার দাদীকে ফোন করে জানিয়েছে, সে সিরিয়ায় এক আইএস ফাইটারকে বিয়ে করেছে।দাদীর ভাষ্যে বর্তমানে শারমিনার বয়স ১৬।

শারমিনার আত্মীয় বাকী মিয়া (৩৫) মেইলের কাছে ৫০০পার্সেন্ট কনফার্ম করে বলেছেন, ইষ্ট লন্ডন মস্ক আর ইসলামিক ফোরাম শারমিনার মগজ দোলাই করেছে। তাকে জান্নাতে তার মায়ের সাথে শহীদী দরজা দেখিয়েছে।

ওয়েম্বলিতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও পরিবারের বন্ধু শাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, গত বছর ডিসেম্বরে শারমিনা সিরিয়া যাওয়ার পরে তার বাপের কাছে একবারই ফোন করেছিলো এবং সে জানিয়েছিলো সে সিরিয়া পৌছেছে।

স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড এ ব্যাপারে মেইলের কাছে কোন মন্তব্য করতে চায়নি। অবশ্য স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড শারমিনাকে সিরিয়া যেতে সাহায্য করার জন্য গত বছর নর্থ লন্ডন থেকে ২০ ও ২১ বছর বয়সী দুই মেয়েকে গ্রেপ্তার করেছে।

ডেইলি মেইলে গত রাতে ইষ্ট লন্ডন মস্কের সাথে যোগাযোগ করলে তারা স্পঠতই তীব্রভাবে এমন অভিযোগ প্রত্যাখান করেছেন। তবে ইসলামিক ফোরাম ইউরোপ কোন মন্তব্য করেনি বলে ডেইলি মেইল লিখেছে।

ডেইলি মেইল তাদের প্রতিবেদনে একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে ইসলামিক ফোরাম ইউরোপের প্রতিষ্ঠাতা লিডার হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিরোধীতাকারী যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ১৮ হত্যার অভিযুক্ত চৌধুরী মঈনুদ্দিন(৬৪) এর নামোল্লেখ করেছে।





ডেইলি মেইলের লিঙ্ক-
http://www.dailymail.co.uk/news/article-3182561/Britain-s-jihadi-bride-groomer-Schoolgirl-radicalised-London-mosque-recruited-three-classmates-join-ISIS-Syria.html

salim932@googlemail.com
02nd August 2015, London.