সাগরে ভাসিয়ে নয়, তাদের গ্রহণ করা উচিৎ - লন্ডনে ইউ এন এম্বাসাডর ডঃ মোমেন
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, সোমবার, মে ২৫, ২০১৫


সাগরে ভাসিয়ে নয়, তাদের গ্রহণ করা উচিৎ - লন্ডনে ইউ এন এম্বাসাডর ডঃ মোমেন

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে

সাগরে ভাসিয়ে নয় বরং মানবিক কারণে হলেও এই সব ভাসমান মানুষদেরকে গ্রহণ করা জরুরী। বাংলাদেশ এখন এমন অবস্থানে যে, এই মুষ্ঠিমেয় ভাসমান মানুষদেরকে স্বচ্ছন্দে থাকা খাওয়ার জায়গা দিতে পারে। সাগরে ভাসমান মানুষ বিশ্বের যে সব দেশে ভিড়তে চাচ্ছেন- সেই সব দেশের উচিত তাদের জায়গা দেয়া। কেবল সাগরে ভাসিয়ে দিয়েই এর সমাধান সম্ভব নয়। গত কাল পূর্ব লন্ডনের আট্রিয়াম হলে ব্রিটিশ বাংলাদেশী চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক ডিনার পার্টিতে জাতি সংঘে নিয়োজিত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ডঃ মোমেন এমন মন্তব্য করেছেন। তিনি আরো বলেন, জিএমজি ১ ও জিএমজি ২এচিভম্যান্ট গোলে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ৫টির মধ্যে চারটিই গ্রহণ করা হয়েছে এবং কাজ শুরু হয়েছে। তবে যে বিষয়টি গুরুত্বদিয়ে আমরা জিএমজি গোলে সংযুক্ত করতে চেয়েছিলাম, জলবায়ূ পরিবর্তনের শিকার মানুষগুলোকে শুধু সাহায্য নয়, তারা যেখানে যেতে চান, সেখানে যেতে সাহায্য ও সুযোগ দেয়া- যা আমরা এখনো সেটা সংযুক্ত করতে পারিনি। সেজন্যে আমাদের ক্যাম্পেইন অব্যাহত আছে। ডঃ মোমেন বলেন, যদি তাই হতো, ধনীদেশগুলো যদি বাংলাদেশের প্রস্তাব গ্রহণ করতো তাহলে সাগরের ভাসমান লোকগুলোকে যেকোন দেশে যাওয়ার সুযোগ থাকতো।

ডঃ মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা ও ভাসমান ইস্যুতে আমাদের উচিৎ ছিলো তাড়াতাড়ি আঞ্চলিক সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া- এই সমস্যা সমাধানের। কিন্তু আমরা এক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে গেলাম। যেভাবে অন্যান্যদেশ দ্রুত এমন ইস্যুতে আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।

বিবিসিসির লন্ডন রিজিওনের প্রেসিডেন্ট বশির আহমদের স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনায় ডিনার পার্টিতে ডঃ মোমেন আরো বলেন, বিবিসির প্রস্তাবিত এনআরবি ডে অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ এবং সেটা খুব ভালো একটা পরামর্শ। আমি সংশ্লিষ্ট মহলে এ ব্যাপারে মতামত পৌছে দেবো। তিনি বলেন প্রবাসীরা অর্থাৎ নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশীরা রেমিট্যান্সে গতি সঞ্চার করছেন।

ইংরেজীতে প্রাঞ্জল ভাষায় বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রাক্তন অধ্যাপক ডঃ মোমেন আরো বলেন, আমাদের প্রচেস্টার ফলে জাতি সংঘে আমরা এখন বাংলাদেশ লাউঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেছি, যাতে দেশের ইমেজ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, জলবায়ূর বিরুপ প্রভাবে গরীব দেশগুলোকে যাতে ক্ষতিপূরণ দেয় ধনীদেশগুলো সেজন্যে বাংলাদেশ প্রস্তাবিত বিভিন্ন দিক তিনি তুলে ধরেন। একই সাথে জাতি সংঘের প্লেনারি সেশনে বাংলাদেশের ইয়ং ট্যালেন্টেড লালন শিল্পী সুমীর কন্ঠে গাণ পরিবেশন, রবীন্দ্র নজরুল চর্চা ইত্যাদির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, এভাবে বাংলাদেশ যে একটা কালচারাল শান্তির দেশ- সেই ইমেজ আমরা বিশ্বের ১৫০টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে তুলে ধরছি।

এ সময় ডঃ মোমেন আরো বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর নিউ ইয়র্কে নিজস্ব ভবন খরিদের মাধ্যমে দেশে মাসিক ৪৩ হাজার ডলার সাশ্রয় করছি। এসময় তিনি প্রবাসীদের ইউএন অফিস সফরের আহবানও জানান।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গৌরব। আমরা ক্ষমতায় এসে প্রবাসী এবং বিদেশী যারা আমাদেরকে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সাহায্য করেছিলেন, তাদেরকে সম্মানিত করার কাজ শুরু করি। তিনি বলেন, আমরা শুরু করেছিলাম এবং ভাবছিলাম প্রাথমিকভাবে শুরু করি, তারপর পর্যায়ক্রমে প্রতিবছর একে একে সকলকেই সম্মানিত করা হবে। সমালোচনা সত্যেও আমরা ৬৫৮ জনকে সম্মানিত করেছি এবং প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা খসরুজ্জামানকেও সম্মানিত করেছি।

তিনি বলেন, আমাদের কাজের পেছনে একজনই প্রেরণা দেন তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অটিজম নিয়েও আমরা কাজ করছি এবং আমাদের মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ এ ক্ষেত্রে যুগান্তকারি ভুমিকা রেখে চলেছেন- যার ফলে আজকে তিনি বিভিন্ন জায়গায় অটিজম নিয়ে বক্তৃতা দেয়ার জন্য আমন্ত্রিত হচ্ছেন।

নানা ঘাত প্রতিঘাত সত্যেও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.২ শতাংশ হয়েছে, স্কুলে শিক্ষার হার ও উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, নারী সক্ষমতা ও উন্নয়ন হচ্ছে, জলবায়ূ আন্দোলনে উদ্যোগী ভুমিকা বাংলাদেশ রাখছে।

ডিনার পার্টির শুরুতে বক্তব্য রাখেন বিবিসিসির ডিরেক্টর জেনারেল মুহিব চৌধুরী, কারি এওয়ার্ডের প্রবর্তক ডাইরেক্টর এনাম আলী এমবিই, সাবেক প্রেসিডেন্ট মুকিম আহমেদ, সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং উপদেষ্ঠা শাহগীর বখত ফারুক, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট এম এ নূর, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম, এনটিভির সিইও ও ডাইরেক্টর সাবরিনা হোসেইন, ডাইরেক্টর আবসার এম ওয়ায়েস, বাংলাদেশ থেকে আগত এনআরবির চেয়ার শেকিল চৌধুরী, ডাইরেক্টর মমতাজ খান, রাজনীতিবিদ সাজিদুর রহমান ফারুক প্রমুখ।
সব শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাইদুর রহমান রেনু জেপি।
salim932@googlemail.com
25th May 2015, London





BBCC DINNER WITH HIS EXCELLENCY UN EMBASSADOR DR AT THE ATRIUM LONDON ON 24TH MAY 2015
BBCC DINNER WITH HIS EXCELLENCY UN EMBASSADOR DR AT THE ATRIUM LONDON ON 24TH MAY 2015