ইমিগ্রেশন নিয়ে ব্রিটেনের ছয় রাজনৈতিক দল কি ভাবছে ?
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, বুধবার, এপ্রিল ০৮, ২০১৫


ইমিগ্রেশন নিয়ে ব্রিটেনের ছয় রাজনৈতিক দল কি ভাবছে ?

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে


মোটা দাগের হরফে যদি বলা হয়, ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন নিয়ে ছয়টি রাজনৈতিক দল কি ভাবছে, তাহলে সামনে পেপারের স্তূপ শুধু বাড়তেই থাকবে।আর পাঠক মাত্রই অবগত হয়ে আছেন দিনের পর দিন ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন সিস্টেম নানা নিয়ম, পয়েন্ট বেইস আর নিয়মের বেড়াজালে কঠিন করা হচ্ছে। কিন্তু ব্রিটিশ অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করে চলেছেন, এমনকি ব্রিটিশ সোসাইটি ডেভেলপম্যান্ট ও ইন্টেগ্রিটিতে যে ইমিগ্রেন্টরা বিশাল ভুমিকা রেখে চলেছেন- প্রকাশ্যে কিংবা অপ্রকাশ্যে সকল রাজনৈতিক নেতা সহ সর্বশ্রেণীর বিশেষায়িত জনগণ স্বীকার করেন- অথচ ইমিগ্রেন্টদের নিয়ন্ত্রণ কিংবা আরো টাইট করা নিয়ে প্রধান দলগুলো সর্বদা ব্যতিব্যস্ত, অথচ কেউ সামগ্রিক সমন্বিত এবং কল্যাণমুখী ইমিগ্রেশন নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলছে কিনা সেটাও মোটা দাগের এক প্রশ্ন। বিগত রিসেশন যারা ব্রিটেনের মধ্যে থেকে উপলব্ধি করেছেন, কেবল তারা জানেন কৃচ্ছ্রতার মধ্য দিয়ে জীবন-যাপন কতো দুঃসহ ও কষ্টকর ছিলো। যেমন আঙুল যার কাটে- সে ছাড়া সে ব্যথার কথা অন্য কেউ জানবেনা, তেমনি ভোক্তভোগী একজন ইমিগ্রেন্টই কেবল জানেন তার হ্নদয়ে কি রক্তক্ষরণ চলছে। যে পরিবার তার প্রিয়তম সন্তান, বউ, স্বামী বা বাবা-মাকে আনতে পারছেনা, বছরের পর বছর কিংবা যে ভাই তার সিদ্ধান্তের আশায় দিনের পর দিন ফাইল ঝুলে আছে বর্ডার এজেন্সির নানা টেবিলে- সে জানে তার জীবনের আলো কেমন করে জ্বলছে আর নিভছে।

আবার বিপরীতে রয়েছে, ইমিগ্রেশনের নানা ফাঁক ফোকর গলে যারা অবৈধভাবে ঢুকছেন, তারাও বর্তমানে নানাবিধ সমস্যা ও উচ্ছৃঙ্খল অবস্থার জন্মও দিচ্ছেন, অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। উভয় ক্ষেত্রে সিনারিও পজিটিভ নেগেটিভ দিক রয়েছে।

ব্রিটেনের নির্বাচনে দেশের সামগ্রিক হাল-চালের সাথে এই ইমিগ্রেশন সিস্টেম ভোটারদের কাছে পজিটিভ এবং নেগেটিভ উভয়ভাবেই প্রধান ইস্যু হয়ে দেখা দিয়েছে সন্দেহ নেই। তাইতো নানা আলোচনায় ঘুরে ফিরে এই ইস্যুই আসছে বারে বার।

এবারের সাধারণ নির্বাচনে যে ছয়টি দল প্রতিদ্বন্ধিতা করছে, তারা এই ইমিগ্রেশন নিয়ে কি ভাবছে, প্রধান প্রধান ছয়টি পয়েন্টের দিকে তাকালেই অনেক কিছু ফুটে উঠে বা বোধগম্য হয়ে যায়। তাহলে চলুন আমরা দেখি ছয়টি দলের ছয়টি প্রধান চিন্তা-ভাবনা কেমন-

কোয়ালিশনের অংশীদার লিক ক্লেগের নের্তৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেট বলছে, তারা ব্রিটেন থেকে যারা বের হয়ে যাচ্ছেন এবং ঢুকছেন তাদের হিসেব চেকিং করা বা তাদের ভাষায় এক্সিট চেক সিস্টেম চালু করা।

ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি বলছে, তারা ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণের পক্ষে বা কাট নীতি (সর্বক্ষেত্রে) সার্থক প্রয়োগের রূপকার । ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে ইমিগ্রেশন কাট নীতির পক্ষে অবস্থান।

এসএনপি চায় স্কটল্যান্ডের জন্য ফুল ইমিগ্রেশন পাওয়ার

গ্রিন পার্টি চায় ইমিগ্রেন্টদের দোষারোপ নয়- আমাদের ইমিগ্রেশন ও অর্থনীতির জন্য ইমিগ্রেন্টরদের দায়ী করা ঠিক হবেনা

ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি মনে করে আমাদের ভাবতে হবে পুরোপুরিভাবে- আংশিক বা এককভাবে নয়, বরং ইমিগ্রেশনকে দেখতে হবে সমগ্র জাতির জন্য কল্যাণকর কতোটুকু তার উপর ভিত্তি করেই পলিসি সাজাতে হবে

মিলিব্যান্ডের নেতৃত্বে প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টি চায় আরো অধিক কন্ট্রোল বর্ডারের এবং অধিক স্টাফ নিয়োগ, যে সব কোম্পানী কাজের লোক শুধু মাত্র বাইরে থাকে নিয়োগ দিয়ে থাকে, তাদের ব্যান করতে এবং ব্রিটিশ জনগনকে সর্বাগ্রে নিয়োগ দিতে। এছাড়াও নাইজেল ফারাজ এর ইউকিপ কেবলমাত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইমিগ্রেশন এবং ইউনিয়নের ভিতরে অবস্থান ও ভুমিকা নিয়ে সোচ্চার।


আরো বিস্তারিত ভিডিওতে-
লিংক https://www.youtube.com/watch?v=eFOXb_H1RAs

এম্বডেড কোড-

Salim932@googlemail.com
০৯ এপ্রিল ২০১৫, লন্ডন