ব্রিটেনকে অবশ্যই প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে হবে-ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ার্সি
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৪


ব্রিটেনকে অবশ্যই প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে হবে-ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ার্সি


সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে


হোয়াইট ক্রিসমাস না হওয়াতে স্রেফ কেবল মাত্র শপিং, পার্টি আর মদের নেশায় বুদ হয়ে থাকা ব্রিটেনের বড় দিনে নতুন করে বোমা ফাটালেন সাবেক সিনিয়র ফরেন অফিসিয়াল ও কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক চেয়ার ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ার্সি।ক্রিমমাসের ছুটিতে ছিম ছাম একেবারে নির্জিব ব্রিটেনের মিডিয়া আর রাজনীতির অন্ধর মহল আবারো সরব হয়ে উঠলো- ব্যারোনেস ওয়ার্সির একটি মন্তব্যে। এ শুধু মন্তব্য নয়, ওয়ার্সির রাজনৈতিক এক মূল্যায়ন, যা মিডিয়ায় ব্যাপক ঝড় তুলবে সন্দেহ নাই।

ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর সাথে এক সাক্ষাতকারে ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ার্সি বলেছেন, ব্রিটেনকে অবশ্যই প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে হবে। আর তাতে রয়েছে এর সমাধান।

প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে বর্তমানে ইউরোপের অনেক দেশই ধীরে ধীরে শেষ পর্যন্ত স্বীকৃতি দেয়া শুরু করেছে। ব্রিটেনের ইউরোপ আর আরব ডেস্কের ভিতরের মহলে এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা- সমালোচনা এখন তুঙ্গে বলে জানা গেছে।

আজকে ইন্ডিপেন্ডেন্টের সাথে সাক্ষাতকারে সাঈদা ওয়ার্সি বলেছেন, “ব্রিটেনকে এখন একতরফা ভাবেই প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে। কেননা নীরব কূটনীতি ব্যর্থ হয়েছে, টু ষ্ট্যাট সল্যুশন কার্যকরভাবে এগিয়ে নিতে ইসরাইল ব্যর্থতর পরিচয় দিয়েছে।“

পশ্চিম তীরে ও গাজায় চারদিনের সফর শেষে ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ার্সি নিজের অফিসে ইন্ডিপেন্ডেন্টের ওলিভারের সাথে সাক্ষাতকারে তিনি দৃঢ়তার সাথে তার অভিজ্ঞতা ও অভিমত তুলে ধরেন।

ওয়ার্সি বলেন, ইসরাইলকে সন্তুষ্ট রাখা সত্যেও ইউকে সরকারের দুই রাষ্ট্রের ফর্মুলা কিছুতেই কাজ করছিলোনা, পশ্চিমতীরে অব্যাহত ভাবে বসতি সম্প্রসারণের জন্যে মন্ত্রীসভাকে অবশ্যই নিন্দা জানাতে হবে।

তিনি বলেন, “পশ্চিম তীর ও গাজায় বসতি স্থাপনকারীরা বেআইনীভাবে জমি দখল করেছে এবং এরা বেআইনি দখলদার। ইসরাইলী সরকার একটি সমন্বিত নীতির মাধ্যমে এটা করছে এবং সে কারণে এখন আমাদের প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে আর তার জন্য একটি মার্ক সেট করতে হবে, আমাদেরকে অবশ্যই বলতে হবে ওখানে যারা বসতি স্থাপন করেছে, তারা সবাই বেআইনি ভাবে করেছে, এবং তারা বেআইনি ভাবে সেখানে বাস করছে এবং অবশ্যই এই বেআইনি দখলদারকে সেখান থেকে সরিয়ে দিতে হবে।“

ওয়ার্সি তার যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “আমরা টু ষ্ট্যাট সল্যুশন চাইছি।কিন্তু এটা করতে গিয়ে আমরা মূলত একটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতেছি।এটা সাধারণ এক যুক্তি যে- আপনি যদি এর মধ্যে কোন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব স্বীকার করেননা, তাহলে আমার দেশ কিভাবে ইসরাইল নামক একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব স্বীকার করছি ?”

ওয়ার্সি বলেন, প্যালেস্টাইনিদের রাষ্ট্রের স্বীকৃতি কোন গিফট বা উপহার নয়, এটা তাদের অধিকার। আমাদের কাছে তা হলো, আলাপ-আলোচনার শেষে একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কেবল স্বীকার করা আর এর পরে শুধু উপদেশ বা বলা যদি কোন আলাপ- আলোচনা বা আপোষ না করা হয় তাহলে কোন রাষ্ট্রের অস্তিত্বের স্বীকৃতি নয় ?

ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ার্সি অত্যন্ত কঠোরভাবে সরকারের নীতির সমালোচনা করে বলেন, আমরা গাজায় একটা রাজনৈতিক সরকার (রাজধানী) প্রতিষ্ঠা করলাম (বানালাম) কিন্তু ঐ সময়ে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হয়েছিলো, আমরা তার সমালোচনা করলামনা। এর ফলে ইসরাইল অধিকৃত এলাকায় আরো বসতি স্থাপনের ঘোষণা করে চললো- যার ফল এখনো বয়ে চলছে। যুক্তি হিসেবে ওয়ার্সি বলেন আমরা ইসরাইলের সরকারের এক তরফা নীতির বিরুদ্ধে জনগণের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সংকটের সময়ে ইসরাইল সরকারের নীতির উপর প্রভাব বিস্তারের কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি, যা অনেক বেশী প্রয়োজনীয় ছিলো। কারণ আমরা ইসরাইল সরকারকে অসন্তুষ্ট করতে চাইনি।

সুতরাং আমরা যে এতো বড় রাজনৈতিক এক রাজধানী বানালাম- সেটা কোন ধরনের অনুসরনীয় বা এফেক্টিভ দৃষ্টান্ত স্থাপনে সহায়তা করলোনা।

ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ার্সির চার দিনের এই সফরের আয়োজন করেছিলো কাউন্সিল অব আরব ব্রিটিশ আন্ডারস্ট্যান্ডিং। তিনি দখলদার বসতি স্থাপনকারীদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, সেখানে কেবিনেট মন্ত্রী আর দখলদারেরা থাকেন, যাদের রয়েছে অত্যাধুনিক বাড়ি ঘর, সুইমিং পুল, স্কুল, হেলথ ক্লিনিক, দামি বাড়ি ঘরের ডিজাইন আর ষ্ট্রাকচার, হাজারে হাজারে ঘর বাড়ি- যা দেখলে সহজেই অনুমেয় হয়ে যায় এটা একটি সুন্দর শহর।প্যালেস্টাইনের জমিনের উপর পেরেক গেড়ে এই সব বসত বাড়িতে রয়েছে ইলেক্ট্রিসিটি, ওয়াটার সাপ্লাই এবং সমস্ত আধুনিক সুযোগ সুবিধা। অথচ এর বিপরীতে রয়েছে এমন জীর্ণ দশার হত দরিদ্র ও সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত এমন সব গ্রাম- যাদের দেখলে মনে হবে তারা যেন কয়েক হাজার বছর আগে এখানে বসতি স্থাপন করেছিলো জোড়াতালি দিয়ে থাকার জন্যে।

সাঈদা ওয়ার্সি সব শেষে যোগ করলেন, এই বসতি স্থাপন টু ষ্ট্যাট রাষ্ট্রীয় সল্যুশন এর বুকে শ্বাসরোধ করে ওদের শেষ করে দেয়া মাত্র- যদি না আমরা এখনি এর সমাধানে অগ্রসর না হই, তাহলে ভবিষ্যতে তা বন্ধ করা অসম্ভব হয়ে যাবে।

Salim932@googlemail.com
26th Dec 2014, London.