শেখ মুজিবের তীব্র সমালোচনায় বিজয় দিবসের আলোচনায় লন্ডনে তারেক জিয়া(ভিডিও)
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, সোমবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৪


শেখ মুজিব বাংলাদেশের অন্যতম রাজাকার- লন্ডনে তারেক জিয়া(ভিডিও)


সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে


বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেখ মুজিব নিজেও বিশ্বাস করেননি, আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি । মুক্তিযুদ্ধের জন্য আওয়ামীলীগকে প্রস্তুত করা হয়নাই। আওয়ামীলীগকে প্রস্তুত না করেই শেখ মুজিব বাংলাদেশের হাজার হাজার লাখ লাখ নারী পুরুষকে হত্যার জন্য মূলত শেখ মুজিবই দায়ী। আর যে হত্যা করে তাকে কি বলা হয় ? সভায় তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে মারেন। আবার নিজেই জবাব দেন- হত্যার জন্য শেখ মুজিব বাংলাদেশের অন্যতম রাজাকার বলা যায়।

সিরাজুল আলম খানের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে বক্তব্য দেন তারেক রহমান- বলেন, আজ পর্যন্ত কেউ এর বিরোধীতা করেননি।


তারেক রহমান ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নিউক্লিয়াসের জনক সিরাজুল আলম খানের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, সিরাজুল আলম খান বলেছেন আওয়ামীলীগ হলো এন্টি লিবারেশন ফোর্স। তিনি এর সোজা বাংলা করে বলেন আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের দল। এ সময় মহীউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক বইয়ের বিভিন্ন রেফারেন্স এবং সিরাজুল আলম খানের সাথে লেখক মহিউদ্দিনের কথোপকথনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

তারেক রহমান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন ঘটনা এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখকের বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শেখ মুজিবকে আবারো পাক বন্ধু হিসেবে তিনির মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তীব্র সমালোচনা আর রাজাকার-


তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাম্প্রতিক অসমাপ্ত আত্মজীবনীরও সমালোচনা করে বিভিন্ন সময়কালীন সময়ে শেখ মুজিবের ১৯৩৮ সালের প্রথম জেলে যাওয়ার ঘটনা যা ডায়রিতে শেখ মুজিব নিজে লিখেছিলেন, তার উদ্ধৃতি দেন এবং আদালতে বাক্য বিনিময় ও অভিযোগ সমূহ নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরে শেখ মুজিবের চরিত্রের নিম্নমান নিয়েও বক্তব্য তুলে ধরেন। এই বক্তব্য উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন এই কথাগুলো আমার নয়, কোন লেখকের নয়, কোন কলামিস্টের নয়, কোন ঐতিহাসিকের নয়, আমারতো নয়ই। কারণ ঐ সময় আমার জন্ম হয়নি। কথাগুলো শেখ মুজিবের নিজের হাতের লেখা ডায়রি থেকে লেখা বই যা শেখ হাসিনা পাবলিশ করেছেন, এ ব্যাপারে তিনি বলেন, এই বইয়ের অপ্রকাশিত বিষয় নিয়েও বিভ্রান্তি আছে, কেননা প্রকাশিত ডায়রিতেই শেখ মুজিবের চরিত্র প্রকাশিত হয়েছে।

তারেক রহমান তার গত ৫ নভেম্বর ২০১৪ আট্রিয়াম হলে দেয়া বক্তব্যের একই উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। সেদিন তিনি আজকের ইত্তেফাকের সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ছাত্রলীগের নেতা থাকাকালীন সময়ে মরহুম আব্দুর রাজ্জাকের সাথে শেখ মুজিবের সাথে সাক্ষাতের সময় শেখ মুজিব কর্তৃক যেভাবে লুঙ্গীর ভাজ থেকে কিছু একটা দিয়েছিলেন- সেই একই কথার ব্যাখ্যাও আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বলেন, সেই কিছু একটার কাজ হলো ছাত্রলীগ যুবলীগের কাজ। আমার নেতাদের দরকার নেই।

তারেক রহমান বর্তমান ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার সরকারকে অবৈধ সরকার আখ্যায়িত করে বলেন, পিতার মতো তিনিও বাংলাদেশের ক্ষমতা অবৈধভাবে দখল করে আছেন।

তিনি বলেন, শেখ মুজিব অবৈধভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। আবারো তিনি বলেন শেখ মুজিব পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে দেশে এসেছিলেন। একই সময়ে তিনি এ কে খন্দকার, তাজ উদ্দিন আহমদের লেখা, শিরিন শারমিনের লেখা, বদরুদ্দিন উমরের লেখা থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন ।

তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে তার পিতা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আবারো বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি মেজর জিয়া বলছি--- ঐ একটি শব্দই ছিলো তখন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এক দুর্দমনীয় শক্তি, তাদের আত্মার কথা।

তারেক রহমান আওয়ামীলীগের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ১৯৭১ সালে বাঙালিরা যেভাবে জেগে উঠেছিলো, এই অবৈধ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আবারো বাঙালিরা জেগে উঠবে, সেদিন আর বেশী দূরে নয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সেক্রেটারি কয়সর এম আহমদের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, চেয়ারপার্সনের পররাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুশফিক ফজল আনসারী,ডঃ এম এ মালিক, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, আব্দুল হামিদ, আবুল কালাম আজাদ, তৈমুস আলী, যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রচার সম্পাদক এম এ কাঈয়ূম, মিডল্যান্ডস বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার আব্দুল মজিদ তাহের প্রমুখ।



উল্লেখ্য সভার শুরুতে যুবদলের নেতাদের দ্বারা তারেক রহমানকে বরণ করা নিয়ে উভয় গ্রুপের নেতাদের মধ্যে তীব্র হট্রগোল, ডাকাডাকি, দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায়। এতে সভার কাজ প্রায় ১৫ মিনিট বন্ধ থাকে। তীব্র হট্রগোল আর হৈ চৈ এর মধ্যে মঞ্চে শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস তার বক্তব্য শুরু করলে কিছুই বুঝা যায়নি। অবশেষে কয়সর এম আহমেদ ফ্লোর নিয়ে নেতা কর্মীদের শৃঙ্খলা ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানকে সম্মান দেখানর আহবান জানালে হট্রগোল ও হৈ হৈ বন্ধ হয়ে যায়।

Salim932@googlemail.com
15 Dec 2014, London