ব্রিটেনে ১৩,০০০ ক্রীতদাসঃ হোম অফিস
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, শনিবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৪


ব্রিটেনে ১৩,০০০ ক্রীতদাসঃ হোম অফিস


সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন থেকে


ব্রিটেনে ১৩,০০০ ক্রীতদাসের কথা স্বীকার করেছেন ব্রিটিশ হোম অফিস। অথচ এর আগে বলা হয়েছিলো ২,৭৭৪ জন, যা ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)র রিপোর্টেও এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছিলো। বর্তমান সময়ের এই রিপোর্ট মতে প্রায় চারগুণের বেশী সংখ্যায় ব্রিটেনে ক্রীতদাস থাকার কথা বলা হয়েছে।

গত বছর ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো আধুনিক স্লেভারি, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার, ফোর্স প্রস্টিটিউশন, ফ্যাক্টরি ও কারখানার শ্রমিকদের সহ ক্রীত দাশ থাকার কথা স্বীকার করা হয়েছিলো।

বর্তমান এই রিপোর্ট প্রকাশের পর হোম সেক্রেটারি থেরেসা মে আঁতকে উঠেছেন। তিনি এই রিপোর্টকে বলছে শকিং।

হোম সেক্রেটারি বলছেন বর্তমান সময়ে আধুনিক ব্রিটেনে এ রকম ক্রীতদাস চলতে দেয়া যায়না এবং তিনি অবিলম্বে গুরুত্বের সাথে একশনের কথা বলেছেন।

বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাতকারে মডার্ন স্লেভারি মিনিস্টার কারেন ব্রাডলি বলেন, মানুষ ভুল করেও জানেনা আমরা কি করেছি, তারপরেও সবাই জানে আমরা ভুল করছি এবং আমাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে।

আজ গার্ডিয়ান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, টেলিগ্রাফ আর ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড এক যোগে এ নিয়ে বিস্তর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

পার্লামেন্টে মডার্ন স্লেভারি বিল দেশে মানব পাচার ও ক্রীতদাস রোধে ইংল্যান্ড ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডে কোর্টকে অধিক ক্ষমতা প্রদান যাতে এ সব রোধে এবং ভিক্টিমদের রক্ষা করা যায়।

এ সম্পর্কে থেরেসা মে বলেন, আমরা বিভিন্ন এজেন্সি, আন্তর্জাতিক এনফোর্স এজেন্সি সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের আধুনিক ক্রীতদাস রোধ সংস্থার সাথে মিলে কাজ করছি, যাতে সাধারণ এবং নিরপরাধ লোকদের রক্ষা করা যায়।

হোম অফিসের মুখপাত্র জানালেন, ইউকে বর্ডার এজেন্সি, এয়ারপোর্ট, সি-পোর্ট সহ সর্বত্র বিশেষ টিম তারা নিয়োগ করার ব্যবস্থা করছেন যাতে মানব পাচার ও মানব পাচার করে ঢুকতে না পারে ও ভিক্টিমদের কল্যাণে লিগ্যাল ফ্রেম ওয়ার্ক নিয়ে কাজ করবেন।

কিন্তু এন্টি স্লেভারি ইন্টারন্যাশনালের ডিরেক্টর আইডেন ম্যাককুয়াড সরকারি এই সব উদ্যোগ যথেষ্ট কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি খোলাখুলিভাবেই লিখেছেন এ সব তাড়াতাড়ি সমাধানের এবং বিভিন্ন কর্ম সংস্থানেও বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের কথাও লিখেছেন।

এনসিএর মতে, বেশীর ভাগ ভিক্টিম পোল্যান্ড, রোমানিয়া, আলবেনিয়া ও নাইজেরিয়ার নাগরিক হলেও বহু ব্রিটিশ এডাল্টস এবং চিলড্রেনস ক্রীতদাস রয়েছে।

গত বছর নভেম্বর মাসে ব্রিটেনের গ্রেটার লন্ডনের একটি বিল্ডিং থেকে তিনজন ক্রীতদাস নারীকে অত্যন্ত অসহায়ভাবে প্রায় তিন দশক পর পুলিশ উদ্ধার করার পর পরই মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানিয়েছিলো
যাদের একজন নারী ফ্রিডম চ্যারিটির আনিতা প্রেমের সাথে যোগাযোগ করে ছিলেন, মিডিয়ায় টেলিভিশন ফুটেজে তাকে দেখানো হয়েছিলো।

এ সম্পর্কে আনিতা প্রেম জানালেন লন্ডনে এ নিয়ে ব্যাপক সাড়া যেমন পড়েছিলো, তেমনি সমস্যাও হয়েছিলো ভিক্টিম ভিন দেশের ছিলেন, যার ফলে ভিনদেশের অথরিটির সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের দরকার ছিলো। তার মতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ নিয়ে সমন্বিত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত যাতে সমস্যাটিকে সঠিকভাবে এড্রেস করা যায়।

Salim932@googlemail.com
30th November 2014, London