ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হাউস কমিটি রুমে বাংলাদেশ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, শনিবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৪


ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হাউস কমিটি রুমে বাংলাদেশ বিষয়ক সেমিনারঃ
ফ্রিডম অব স্পিচ এন্ড হিউম্যান রাইটস ইন বাংলাদেশ আর সিরিয়াস কনসার্ণ


সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে


*অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্র এবং রিলিজিয়াস সমাজে অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকা জরুরী- লর্ড এভিভুরি
*ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন এন্ড হিউম্যান রাইটস আর সিরিয়াস কনসার্ণ- আব্বাস ফয়েজ
*লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দেশে যে আন্দোলন হচ্ছে সরকার তা চলতে দিচ্ছে, যা ফাউন্ডামেন্টালিষ্টদের শক্তিশালী করছেঃ পুস্পিতা গুপ্তা
*বাংলাদেশে সকল বেসরকারি টেলিভিশন মিডিয়ার মালিক বিএনপিঃ এইচ টি ইমাম
*আগের যে কোন সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের ইকোনোমিক ও জিডিপির গ্রুথ বৃদ্ধি পাচ্ছে-ডঃ মশিউর রহমান
*জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাসী সংগঠন, সরাসরি আইএস, উলফা, হরকাতুল জিহাদ, জে এমবির সাথে জড়িত-তারানা হালিম এমপি
*বাংলাদেশে বর্তমানে যে সংসদ রয়েছে তা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়- শমসের মুবিন চৌধুরী
*বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচনা করেছে বিএনপি- আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
*মৌলবাদীদের হুংকার ধর্মনিরপেক্ষতার পথে অন্তরায়- প্রমোদ মানকিন এমপি
ইসলাম নয় বরং ধর্মনিরপেক্ষতাকে আঘাত করেছে যারা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী-সঞ্জীব চৌধুরী সাংবাদিক
*উই আর ওয়ার্কিং উইথ আওয়ামীলীগ, উই উইল বি ওয়ার্ক উইথ বিএনপি বাট উই অপোজ এক্সিট্রিমিজম-জিম ফিটজ প্যাট্রিক এমপি
*মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন ঘটেই চলছে ক্রমাগত- লর্ড কার্লাইল
*গত ছয় বছর ধরে বাংলাদেশ রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে-চার্লস টানক এমইপি
*৫ জানুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হলেও জনগণের মতামতের প্রতিফলন হয়নি-জিন ল্যাম্বার্ট

আজ ২৬ নভেম্বর ২০১৪ বুধবার বিকাল ২.৩০ মিনিটে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কমিটি রুম-জি তে বাংলাদেশের ৪৩ বছরের স্বাধীনতা, ডেভেলপম্যান্ট, ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস এন্ড থ্রেট টু সেকুলারিজম এর উপর এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন লর্ড এভিভুরি। কো-চেয়ার ছিলেন অ্যান মেন এমপি। সেমিনারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ডঃ মশিউর রহমান, প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন এমপি, তারানা হালিম এমপি, ক্যাম্পেইন ফর দ্য প্রোটেকশন অব রিলিজিয়াস মাইনোরিটিস ইন বাংলাদেশ এর পুষ্পিতা গুপ্তা, বাংলাদেশের হাই কমিশনার এম এ হান্নান, আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী, বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের আব্বাস ফয়েজ, সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী, ব্রিটিশ এমপি জিম ফিটজ প্যাট্রিক এমপি। সেমিনারে লিখিত ম্যাসেজ পাঠান চার্লস টানক এমইপি, লর্ড কার্লাইল কিউসি, ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রধান জিন ল্যাম্বার্ট।

লর্ড এভিভুরি শুরুতেই তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঘড়ির কাটায় ঠিক ২.৩০ মিনিট হতেই। ঐ সময় পর্যন্ত বিএনপির দুই প্রতিনিধি, এমনেষ্টির আব্বাস ফয়েজ, সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী এসে পৌছাননি। এ সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসকে মোবাইল হাতে টেলিফোনে অপর প্রান্তে খুব তাগাদা দিতে দেখা যায়। লর্ড এভিভুরি তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে , পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের ভূমি জবর দখল এবং তাদের ন্যায় সঙ্গত সমতার ভিত্তিতে ভূমি বণ্টন ও বাঙালি নন-বাঙালি ইস্যুর বিভিন্ন পর্যায় অল্প বিস্তর টাচ করে বলেন, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে পাহাড়ি বাঙালিদের মধ্যে যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিলো, তা নিয়ে যে চুক্তি হয়েছিলো, সে ভিত্তিতে আরো কাজ করার সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রিলিজিয়াস টলারেন্স, মানবাধিকার সমুন্নত এবং আইন ও বিচার ব্যবস্থায় সকলের সমান অধিকারের উপর গুরুতে দিবে। আজকের সেমিনারে উভয় দল এখানে এই মানবাধিকার পরিস্থিতি, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার উপর যে আঘাত সেই বিষয়ে নিজ দলীয় বক্তব্য তুলে ধরবেন। লর্ড এভিভুরি সকল দল মত নির্বিশেষে সকল ধর্মের সমান অধিকারের রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি এবং ধর্মীয় উগ্রতা পরিহার, নাগরিকের মানবাধিকারের যাতে লঙ্ঘন না হয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও উন্নয়ন সকল ধর্ম, বর্ণ, উপজাতি নির্বিশেষে সকলের জন্য সমানভাবে বন্টন, সুযোগ এবং উন্নয়ন আর চাকুরী, শিক্ষা, প্রভৃতি ক্ষেত্রে উপজাতি ও ধর্মীয় মাইনোরিটি সহ সকলের সমান সুযোগ প্রদানের নিশ্চয়তা দেবে আন্তর্জাতিক কমিউনিটি এবং ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ সেটাই আশা করে। ধর্মীয় উগ্রতা, সন্ত্রাস এবং কট্ররপন্থা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রটেকশনের কোন স্থান নেই। লর্ড এভিভুরি বলেন, রাষ্ট্রের অন্যান্য ধর্মের যারা মাইনোরিটি আছেন তাদের অধিকার সুরক্ষা করবে রাষ্ট্র, সকল ধর্মের সহাবস্থান থাকবে।

এই পর্যায়ে লর্ড এভিভুরি সেমিনারের কো-চেয়ার অ্যান মেন এমপির হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। ইতোমধ্যে ২.৫০ মিনিটে বিএনপির প্রতিনিধিবৃন্দ সহ অন্যরা সেমিনার রুমে প্রবেশ করে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করেন।অ্যান মেন এমপি বলেন, এখানে দুই দলের প্রতিনিধিবৃন্দ গণতান্ত্রিকভাবে প্রাণবন্ত বিতর্ক করবেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সেকুলারিজম নিয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেবেন- এমনটা আশা করি। তিনি বলেন আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগী, ৪৩ বছরে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেলেও এখনো অনেক ক্ষেত্রে আরো উন্নতি করতে হবে। তিনি তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামকে বক্তব্য দেয়ার আহবান জানান। একই সময়ে অ্যান মেন এমপি নিজ আসন থেকে উঠে গিয়ে ( এবং নিজের অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চলে যাওয়ার প্রাক্কালে) নিজ চেয়ারে ডঃ মশিউর রহমানকে এনে আসন গ্রহণ করান যেখানে ঠিক পাশের চেয়ারে শমসের মুবিন চৌধুরী বসা। অ্যান মেন এমপির এমন উদ্যোগে দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা পাশাপাশি বসে নিজেদের মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য কুশল ও শলা পরামর্শ করতে দেখা যায়।

এইচ টি ইমাম বলেন, ৫ তারিখের নির্বাচন আমরা করেছি, বিএনপিকে আমরা সেই নির্বাচনে অংশ গ্রহণের আহবান জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা অংশ নেয়নি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিজে উদ্যোগী হয়ে বিএনপি নেত্রীকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তারাও বেশ কিছু আসন পেতো। তিনি বলেন আপনারা ডেমোক্রেটিক ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট নিশ্চয় দেখেছেন, তারা বলছে ৫ তারিখের নির্বাচনে ৪০% ভোটাধিকার প্রয়োগ হয়েছে। এ সময় পেছন থেকে মিথ্যা মিথ্যা বলে মৃদু আওয়াজ শুনা যায়।

এইচ টি ইমাম বলেন, বিগত জোট সরকারের সময়ে আমাদের এ এস এম কিবরিয়া, আহসান উল্লাহ মাস্টার সহ অনেককেই হত্যা করা হয়েছিলো। বহু হিন্দু ঘর বাড়ী, টেম্পল, জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমান সরকার উগ্রতা, সন্ত্রাস ও ধর্মীয় কট্রর পন্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

এইচ টি ইমাম বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এপিলেট ডিভিশনের রায়ের আলোকে কেয়ার টেকার গভর্ণম্যান্ট এই সরকার বাতিল করেছে। তিনি বলেন সুপ্রিম কোর্টের ভার্ডিক্ট পুরোটাই তিনি পড়েছেন। সেজন্যে তিনি বলছেন, সুপ্রিম কোর্ট বলেছে এই অনির্বাচিত কেয়ার টেকার সিস্টেম সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং অবৈধ। পার্লামেন্টের উপর ছেড়ে দেয়ায় সংসদ সেটা বাতিল করেছে।

এইচ টি ইমাম বলেন, বাংলাদেশের সবকটা বেসরকারি টেলিভিশনের মালিক বিএনপি। সেখানে সব সময় সরকারের সমালোচনা করা হয়। কাউকেতো বাধা দেয়া হয়না।

এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের আব্বাস ফয়েজ বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তারা মানুষ গুমের ইনভেস্টিগেশন করছেন। যদিও এ নিয়ে পূর্ণ তালিকা তাদের হাতে নেই, তারপরেও এখন পর্যন্ত তাদের হাতে রয়েছে ২০টি কেস তদন্ত করতে গিয়ে তারা পেয়েছেন ১২ জন নিখোঁজ তার মধ্যে ৯ জন নিহত অবস্থায় পাওয়ার তথ্য রয়েছে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তারা জেনেছেন, দেশে গুম, নিখোঁজ এবং শ্রমিকদের জীবন মানের অবস্থার অবনতি বেড়েই চলছে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় অবশ্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জড়িয়ে পড়া এবং উচ্চ পদস্থ আইনি কর্তাদের গ্রেপ্তার করার তথ্যও রয়েছে।

আব্বাস ফয়েজ এ সময় অন্যান্য তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে বলেন, এই মুহুর্তে বাংলাদেশে সবচাইতে ভয়াবহ যে বিষয় আর তাহলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দারুণভাবে বিঘ্নিত। সিকিউরিটি ফোর্স এ বিষয়ে জড়িত হওয়ার তথ্যও আসছে। সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী সকলেই বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন।

পুষ্পিতা গুপ্তা লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দেশে যে আন্দোলন চলছে তার সমালোচনা করেন। তিনি একটি তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন। বিগত সময়ে জামায়াত শিবির কিভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানদের বাড়ী ঘর, মন্দির, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিলো তার চারটি সচিত্র সহ তথ্য উপস্থাপন করেন। তিনি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের সাথে জামায়াত শিবিরকে দায়ী করেন, বিএনপি এই জামায়াত শিবিরকে প্রটেক্ট করছে বলে অভিযুক্ত করেন। পুষ্পিতা বলেন বিএনপি জোটের জামায়াত শিবিরের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে তাদের পাশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি দাঁড়িয়েছিলো। প্রামাণ্য চিত্রে তিনি সুন্দরগঞ্জের বর্ণনা দেন এবং দেখান সেখানে বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের লোকজন কিভাবে হত্যা, লুটপাট করে মাইনোরিটিদের জান মালের ক্ষতি করেছিলো। তিনি বাংলাদেশের সেকুলারিজম বিএনপি জামাত জোটের হাতে হুমকির মুখে পড়েছিলো এমন দাবী করে ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঘটে যাওয়া সুন্দর গঞ্জের ৩২ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বিস্তারিত বর্ণনাও দেন। তিনি বলেন জামাত তাদের বলতো তোমাদের স্থান ভারতে, বাংলাদেশ নয়। তিনি বলেন বাংলাদেশের সেকুলারিজম আন্ডার সিরিয়াসলি থ্রেট।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডঃ মশিউর রহমান বলেন, বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি আগের যেকোন সময়ের তুলনায় এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের জিডিপি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত আছে। কয়েকবছর যাবত আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৭ মধ্যে রেখেছি, অথচ সারা বিশ্ব যেখানে চরম মন্দার মধ্য দিয়ে গিয়েছে।

তারানা হালিম এমপি বলেন, আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে প্রধান বাধা জামায়াত শিবির। জামায়াত শিবির হলো কট্রর উগ্র সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। এদের সরাসরি লিংক আইএস, উলফা, হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি সহ নানা উগ্র ধর্মীয় সন্ত্রাসী সংঠণের সাথে। তারানা হালিম এমপি বলেন আমাদের সেকুলারিজম এই সব উগ্র ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ক্ষতিগ্রস্ত করছে।আর তাদের রক্ষক হিসেবে বিএনপি তাদের রক্ষা করছে। তিনি বিএনপিকে এজন্য সরাসরি দায়ী করেন। তবে বর্তমান সরকার এই উগ্র ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সকল ধর্ম, বর্ণ ও সকল গোত্র ও মাইনোরিটির সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে।

সেমিনারে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে সরকার এবং সংসদ রয়েছে তা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। ৫ তারিখে ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে তারা নিজেরাই ক্ষমতা নিয়েছে। ৫ তারিখের নির্বাচনে ১৫৩জন বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দেশ বিদেশে কোথাও এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

শমসের মুবিন বলেন, আমার সামনে বসে আছেন এইচ টি ইমাম। তিনি প্রধানমন্ত্রীর একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা। কিছুদিন আগে ডাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি বলেছেন তিনি নিজে তদারকি করে নিজেদের দলীয় পুলিশ বাহিনী দিয়ে ভোটের কাজ করেছেন।পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ভোটের সময় তাদের জন্য উজাড় করে দিয়েছে। তিনি নিজেই এই বক্তব্য দিয়েছেন পুলিশকে দিয়ে ভোটের কাজ করিয়েছেন, ভোটার ছিলোনা।

বিএনপি চেয়ার পার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও অগ্রগতি ডিফাইন এবং এর সূচনা বিএনপি করেছিলো। তিনি বলেন সেকুলারিজম এর ক্ষতি বরং সেকুলারিজম যারা বলেন তারা নিজেরাই করেছেন। ধর্মীয় সন্ত্রাসকে উস্কে দিয়েছেন। সংবিধান পরিবর্তন করে তা সংযোজন করেছেন। তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা- যা সকলেই প্রশংসা করেছিলেন- সেই ব্যবস্থা বাতিল করেছেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এইচ টি ইমাম নিজে ছাত্রলীগের সমাবেশে বলেছেন, ছাত্রলীগের ছেলেদের বিসিএস পরীক্ষায় ভাইভাতে দেখবেন। এই যদি হয় দেশের ক্ষমতাধর উপদেষ্টার কাজ সিভিল সার্ভিসে দলীয় ছেলেদের ঢুকানোর পন্থা, তাহলে প্রশাসনে মেধাবীদের কদর কিভাবে হবে ?

প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বলেন ধর্মীয় উগ্রবাদী দলগুলোর হুংকার ধর্মনিরপেক্ষতার পথের অন্তরায়- যা সরকার কঠোর হস্তে এই সব জঙ্গি ও ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সরকারের আমলে বাংলাদেশে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সব ভাই ভাই ।

সাংবাদিক সঞ্জীব চৌধুরী আওয়ামীলীগ প্রতিনিধিদের বক্তব্য জোরালোভাবে খণ্ডন করে বলেন, ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষতার পথে বাধা নয়।তার মতে, ইসলাম নয় বরং ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের দ্বারাই বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত, আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে।তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, যারা ধর্মনিরপেক্ষের কথা বলেন তারা এটাকে ব্যবহার করে ধর্মীয় জিগির উস্কে দেন।

এ সময় সেমিনারে পপলার ও লাইম হাউসের এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিক প্রবেশ করেন এবং তিনি আসন না নিয়ে হাসি মুখে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুনেন। লর্ড এভিভুরি এই পর্যায়ে জিম ফিটজপ্যাট্রিক এমপিকে বক্তব্যের আহবান জানালে তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায়। আমরা আওয়ামীলীগের সাথে কাজ করছি, করবো। বিএনপি ক্ষমতায় ছিলো- বিএনপির সাথে আমরা ছিলাম। আবার বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমরা বিএনপির সাথে কাজ করবো। কিন্তু আমরা সকল প্রকার উগ্রতা ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা বাংলাদেশের বন্ধু-ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ।সাংবাদিকদের দেখিয়ে তিনি বলেন লন্ডনে বাংলাদেশের নিজস্ব চ্যানেল রয়েছে, যারা আমার এই বক্তব্য কাভারেজ করবে। আমি যদি এখন ঢাকায় যাই-আমাকে ঢাকার মিডিয়া কাভারেজ দিবে অনেস্টলি। কিন্তু এই লন্ডনে আমাদের মিডিয়া আমাকে কাভারেজ দিবেনা- এখানেই আসল কথা, আর এটাই সত্য। সব শেষে তিনি বাংলায় বলেন, আমি সিলটি মাততাম ফারি। আফনারা ভালা আছনইননি। আমার তোরা কাম আছে আমি যাইরামগি।

সেমিনারে ফরেন অফিসের মুখপাত্র বলেন, ঢাকায় আমাদের হাই কমিশন বাংলাদেশ সরকার এবং বিরোধী দলগুলোর সাথে ক্লোজলি কাজ করছে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকারের উন্নয়ন ও মাইনোরিটি সহ সকল ধর্মীয় সহিঞ্চুতা রক্ষায়। তবে প্রশ্ন হলো- বাংলাদেশ সরকার এখন কিভাবে এই এক্সিট্রিমিজম যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, সেটা মেইন্টেইন করবে ?

এ ছাড়াও লর্ড এভিভুরি লর্ড কার্লাইল, চার্লস টানক, জিম ল্যাম্বার্টের ম্যাসেজ পড়ে শুনান।

বাংলাদেশের হাই কমিশনার এম এ হান্নান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে এক এমার্জিং টাইগার। বিশ্বে এখন বাংলাদেশের ভাব মূর্তি অনেক উজ্জ্বল। এ সময় তিনি নতুন হাই কমিশনার হিসেবে ব্রিটেনে অবস্থানকালীন সময়ে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করলে লর্ড এভিভুরি সকল সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এই পর্যায়ে লর্ড এভিভুরি উপস্থিতদের কাছ থেকে কোন প্রশ্ন আছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান উঠে দাঁড়ান। তিনি শুরুতে লর্ড এভিভুরিকে প্রশ্ন করেন, বিএনপির সাথে ব্যয় সঙ্গত আচরণ করা হয়নি। কেননা তিনি বলেন, দেখেন আপনার ডান পাশে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ৫ জনকে (অবশ্য পুষ্পিতা প্রতিবাদ করেন) বক্তব্য দেয়ার জন্য দেয়া হয়েছে আর বিএনপির পক্ষ থেকে মাত্র দুজন। তারপর তিনি রক্ষীবাহিনী সহ বাকশাল ইত্যাদি নিয়ে বক্তব্য দিতে চাইলে উপস্থিত আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা হৈ চৈ করে বাধা দেন। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক মাহিদুর রহমানকে বাধা দিয়ে বলেন আপনার প্রশ্ন বলুন। এ সময় হলময় খানিকটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। লর্ড এভিভুরি বলেন এই হল ঢাকা নয়, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সেমিনার রুম। এখানে একজন চেয়ারও আছেন। তারপর সেমিনার রুম শান্ত হলে মাহিদুর রহমান বলেন, আমার একটাই প্রশ্ন কবে বাংলাদেশ একটি স্বচ্ছ অবাধ নির্বাচন পাবে ? লর্ড এভিভুরি এইচ টি ইমামকে উত্তর দিতে সুযোগ দিলে তিনি এ প্রশ্ন সরাসরি এড়িয়ে গিয়ে সরকারের নানা ফিরিস্তি ও তত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ভার্ডিক্ট ব্যাখ্যা করেন। তবে তিনি সুপ্রিম কোর্টের এপিলেট ডিভিশনের এক অংশ ব্যাখ্যা করেন, দ্বিতীয় অংশের ব্যাপারে তিনি নিরব থাকেন।

এ সময় দ্বিতীয় প্রশ্ন করেন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান। তিনি নিজামীকে মন্ত্রীত্ব ও জাতীয় পতাকা দিয়ে পুরো জাতি ও জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং বিএনপি জাতীয় পতাকাকে একেবারে ধূলিসাৎ করেছে সেটা জানতে চাইলে বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ এ ব্যাপারে যুক্তি উপস্থাপনের সময় আবারো হলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রশ্নের জবাবে আওয়ামীলীগের সাথে জামায়াতের দহরম মহরম তথ্য তুলে ধরলে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা বাধা দেন, এক পর্যায়ে আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি সৈয়দ ফারুক আমীর খসরুকে ধমকের সুরে থামিয়ে দিলে বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুসও ধমকের সুরে কথা বলেন। পরিস্থিতি আচ করতে পেরে লর্ড এভিভুরি উঠে সকলকে থামিয়ে দেন। দর্শক সারি থেকে প্রশ্ন আহবান করেন।

লর্ড এভিভুরি সাংবাদিক সারিতে বসা এটিএন বাংলার ইংরেজি নিউজ কাস্টার সাদিয়া চৌধুরীকে বক্তব্য দেয়ার আহবান জানালে তিনি উঠে গিয়ে বলেন আমি কোন দল করিনা, আওয়ামীলীগ নয়, বিএনপি নয় – আমি একজন বাংলাদেশী। বাংলাদেশ সুন্দরভাবে চলুক, উন্নতির শিখরে আরোহন করুক, জীবন মানের উন্নতি, গণতন্ত্র চর্চা, মানবাধিকার সমুন্নত থাকুক- এটাই চাই।

লর্ড এভিভুরির আহ্বানে দর্শক সারি থেকে কনজারভেটিভের এমপি প্রার্থী মিনা রহমান বলেন, আমি একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশী। আমি আওয়ামীলীগ বিএনপির কেউ নই। বাংলাদেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি আমি কামনা করি। নারীদের ক্ষমতায়ন প্রশ্নের উত্তরে তারানা হালিম এমপি বলেন বাংলাদেশে এখন নারীদের সক্ষমতা ও ক্ষমতায়ন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলের নেত্রী, বিএনপির নেত্রী সবাই এখন নারী। শুধু তাই নয় আমাদের স্থানীয় সংস্থার নির্বাচনে প্রায় ১২০০ অধিক নারী সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

এই পর্যায়ে ফ্লোর নিয়ে এইচ টি ইমাম বলেন, আগামীতে সেমিনারে আমাদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টিকেও আমন্ত্রণ জানানো উচিত। তখন বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয় এটাতো আপনাদেরকে আরেক শাখা। এ নিয়ে বেশ হাস্য রসের সৃস্টি হয়।

সব শেষে লর্ড এভিভুরি সকলকে ধন্যবাদ দিয়ে সেমিনার শেষ করার আগে এইচ টি ইমাম এবং শমসের মুবিন চৌধুরীকে সংক্ষেপে সমাপনী বক্তব্য দেয়ার আমন্ত্রণ জানান।



Salim932@googlemail.com
26th November 2014, London.