বার্মিংহামে ২00 হাজার পাউন্ডের এডুকেশন চ্যারিটি ব্যবসায় ফ্রডের সেন্টেন্সে দুই এশীয় মহিলা
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, বুধবার, মার্চ ২৬, ২০১৪


২00 হাজার পাউন্ডের এডুকেশন চ্যারিটি ব্যবসায় ফ্রডের সেন্টেন্সে দুই এশীয় মহিলা

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ

দুইজন এশীয় মহিলা, যারা এডুকেশন চ্যারিটি ব্যবসার মাধ্যমে ফ্রড করে ২০০ হাজার পাউন্ড কামিয়ে নিয়েছেন। অথচ তারা তাদের ব্যবসায়ের স্বীকৃতি ও ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা এবং এন্টারপ্রেনর হিসেবে ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ, প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুন, সাবেক প্রাইম মিনিস্টার গর্ডন ব্রাউন, প্রিন্স চার্লস, চ্যান্সেলর জর্জ অসবোর্ণ, সাবেক ড্রাগন ড্যান টাইকুন জেমস কানের সাথে সাক্ষাত করেন ও রিকগনিশন লাভ করেছিলেন। শুধু কি তাই এই দুই এশীয় মহিলা নিজদের ফ্রড ব্যবসায়ের আড়ালে ব্রিটেনের এডুকেশনের রেজিস্টার্ড লার্ণ ডাইরেক্টের নাম লগো ওয়েবসাইট বানিয়ে মানুষকে ধোঁকা ও প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে হাজার হাজার পাউন্ড হাতিয়ে নেন। এসবই করেন অত্যন্ত কৌশলে। কেউই ঘুণাক্ষরে টের পাননি। খবর রটে তখনি, যখন দেখা যায় অতিরিক্ত সংখ্যক লোক অধিক নাম্বার পেয়ে অনলাইন লার্ণ ডাইরেক্ট থেকে পাশ করে বের হচ্ছেন, অথচ প্রকৃত লার্ণ ডাইরেক্ট সাইট এরকম পরীক্ষা পদ্ধতিতে এতো অধিক ছাত্র ছাত্রী পাশ করার রেকর্ড নেই।

দুজনেই সমাজে ও কমিউনিটিতে সুনামের অধিকারী, সুন্দরী, চলনে বলনে স্মার্ট। অথচ শিক্ষা ক্ষেত্রকে হাতিয়ার বানিয়ে এবং উপর তলার নামী দামী সার্টিফিকেট আর রিকগনিশন ব্যবহার করে প্রতারণার নয়া রেকর্ড গড়ে তুললেন, যা রীতিমতো বিস্ময়ের জন্য দিয়েছে।অনেকেই এমন সংবাদে বিশ্বাস করতেই চাননি। কেননা কমিউনিটি, এন্টারপ্রেনরশীপ আর টিভি মিডিয়ায় সরব উপস্থিতির কারণে অনেকের বিস্ময়ের ঘোর কাটতে সময় লেগে যায়।কিন্তু বাস্তবে তারা প্রতারণার মহাগুরু।

বার্মিংহামের এগসবাস্টনের ৪১ বছর বয়সী উপেলা এবং স্টাফস রুগলীর ৩৭ বছর বয়স্কা নাগাই নামের দুই মহিলা এন্টারপ্রেনর নিজদের মধ্যে যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া ওয়েবসাইট বানিয়ে লোকদেরকে ও ছাত্র ছাত্রীদেরকে ভুয়া প্রমোশন, ভুয়া এনরোল, ভুয়া পরীক্ষার মাধ্যমে চ্যারিটি প্রফেশনের আড়ালে ব্যবসা সাজিয়ে বসে ২০১০ সালের মার্চ থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে ২০০ হাজারেরও উপরে ফ্রড মানি অর্জন করেছেন।

লন্ডন সাউথ ওয়ার্ক ক্রাউন কোর্ট তাদেরকে সাসপেন্ডেন্ট জেইল টার্মস নয় ও ছয় মাস এবং একই সাথে ১০০০ পাউন্ড করে কষ্ট দেয়ার জন্যে অর্ডার করেন।

ডিটেক্টিভ খান বলেন, এই দুই মহিলা কুইন কর্তৃক এশিয়ান মহিলা এচিভম্যান্ট এওয়ার্ডধারী অথচ লজ্জার বিষয় হলো চ্যারিটি শিক্ষার নামের আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে মানুষকে টকিয়ে হাজার হাজার পাউন্ড হাতিয়ে নিয়েছেন, তাও স্বীকৃত এক শিক্ষার ওয়েব সাইট প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবহার করে।

জানা যায়, ফেব্রুয়ারি ২০১১ সালে পুলিশ লার্ণ ডাইরেক্টে এতো বিপুল সংখ্যক পাশের ব্যাপারে যোগাযোগ করলে এই ইন্ডাস্ট্রির টনক নড়ে। তারা পুলিশকে জানান এ ধরনের কোন কার্যক্রম তারা পরিচালনা করেন না।

পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে এই দুই মহিলা এডাল্ট লার্ণারদের টার্গেট করে চাকুরী ও ক্যারিয়ার ডেভেলপম্যান্টের সুযোগে চাকুরীর নিশ্চয়তা সহ ভুয়া কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেন।

লার্ণ ডাইরেক্ট এর একজন মুখপাত্র জানান আমরা এই দুই জনের সেন্টেন্সের ব্যাপারে এবং প্রতারকদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায় সন্তুষ্ট।

Salim932@googlemail.com
25th march 2014, London