আতরজান ও শ্রীমান তালেব আলীঃদ্বিতীয় পর্ব
আজম ফারুক, বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ০৩, ২০১৩


আজম ফারুক-এর গল্পের দ্বিতীয় পর্ব-
ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পরেছিলাম একদম খেয়াল নেই। হঠৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি প্রায় চারটা । আমার মাথাটা কোলে রেখে দেয়ালে হেলান দিয়ে আতরজান ঘুমাচ্ছে। আমি কোলে করে নিয়ে ওকে বিছানায় শুইয়ে দিলাম। এরপর আমি অপলক দৃষ্টিতে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম । নিঃচিন্তে ঘূমন্ত একজন নারী, কিন্তু তারপরও ওকে আমায় খুব অসহায় লাগছিলো । স্বামীহীন একজন নারী । অনেক আত্নীয় স্বজন থেকেও যেন কেউ নেই ওর এই পৃথিবীতে । নিতান্তই একা । আমাদের দেশে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত নারীরাতো এমনিতেই বিয়ের পর নিজের পরিবার হতে বিতাড়িত হয়ে যায়। অল্পবয়সে স্বামী হারালে সমাজের কাছেও মূল্যহীন হয়ে যায়, এবং লোলুপ দৃষ্টির শিকার হয় তথাকথিত দস্যুমানবদের কাছে । যে দেশে একজন অবিবাহিত মেয়েকে বিয়ে দিতে পরোক্ষভাবে কয়েক লক্ষ টাকা যৌথুক দিতে হয়, সে দেশে উইডো ও ডিভোর্সড নারীদের বিয়ে কতটুকু কঠিন তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা ।
হঠাৎ করে আতরজান শোয়া থেকে বিছানায় উঠে বসলো । জিজ্ঞেস করলো তুমি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে এতক্ষন যাবত কি দেখছো ?
আমি পাল্টা প্রশ্ন করলাম তুমি এতক্ষন ঘূমাওনি ?
আমি চোখ বন্ধ করেছিলাম, ভাবছিলাম তুমি শুয়ে পড়বে ।
আমি তোমাকে নিয়েই ভাবছিলাম ।
অত ভাবতে হবে না । এখন সূবোধ বালকের মত শুয়ে পড় । সকালে অনেক কাজ আছে ।
সকালে আবার কি কাজ ?
তোমাকে নিয়ে নাপিতের কাছে যাবো ।
নাপিতের কাছে কেন ?
তোমার চূল কাটতে ।
আমি নাপিতের কাছে যাব না ।
তোমার চূলের অবস্থা দেখেছো ? উস্কোখুস্কো ।
এটা আমার ব্যক্তি স্বাধীনতা ।
ভালবাসার মানুষকে কষ্ট দেয়া কোন ব্যক্তি স্বাধীনতা হতে পারেনা ।
চূল কাটার সাথে ভালবাসার কষ্টের কি সম্পর্ক ?
আমি চাই আমার বন্ধু সুন্দর ভাবে পরিপাটি হয়ে থাকবে ।
চুল কাটার টাকা কে দিবে ?
তোমার পকেট থেকে নিয়ে আমিই দিবো ?
সে চূল কাটতে গিয়ে যদি আমার কান কেটে ফেলে ?
সেইক্ষেত্রে ক্ষতিপূরন আমি দেবো ।
তাহলে কি ওকে দিয়ে আগেই আমার কান কাটিয়ে নিবো ?
কান কাটিয়ো, নাক কাটিয়ো, এখন গুমাও ।
আমি আর কথা না বাড়িয়ে শুয়ে পরলাম। ভাবতে থাকলাম এই চূলকাটা কে আবিস্কার করেছে ? চূলকাটার কি প্রয়োজন ছিল ? আদিম যুগে কি কেউ চূল কাটতো ? বাংলাদেশের রাজনীতি তো অনেকটা আদিম যুগের মতই । আমাদের কি চূল কাটার দরকার আছে ? (চলবে)