মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী কি অসুস্থ্য ?
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ , রবিবার, আগস্ট ১০, ২০১৪


মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী কি অসুস্থ্য ?

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ

ইংল্যান্ডের রাজপথে রোববার কখনো কখনো শনিবার দুপুরের একটু আগে একপ্রকারের যানবাহন রাজপথ কাঁপিয়ে ঠুং ঠাং শব্দে চলতে দেখা যায়। সেই বিশেষ যানবাহনের বাহন যেমন থাকে পরিপাটি করে সাজানো সুন্দর গোছানো ঘোড়া- যার একটি থাকে কালো, আরেকটি থাকে কখনো সাদা কিংবা ব্রাউন কালারের।পেছনে আরোহী যিনি বসে থাকেন তিনিও বেশ স্মার্ট আর সুদর্শনা, তবে হাতে একখানা লম্বা চিকন ছড়ি থাকে, মাঝে মধ্যে সেই চিকন ছড়ি ঘুরান- আর শপাং শপাং শব্দে ঘোড়া তখন আরো তেজোদীপ্তভাবে ছুটে চলে।ঘোড়ার পেছনে বাধা থাকে একধরনের পিপা- সিলভার পাতের বিয়ারের সামগ্রি- যার কাজ হলো ভিনটেজ এই বিয়ার সামগ্রি ঘোড়ার গাড়ি রোববার বা শনিবার দিনে রাজপথ মাড়িয়ে নিয়ে চলে অনবরত। ছড়ির চাবুক যখন ঘোড়ার পেছনে পড়ে, তখন ঘোড়া এক ধরনের শব্দ করে চলে, তবে ঘোড়ার মুখ আবার এক ধরনের বিশেষ শেকল দিয়ে থাকে আটকানো-শব্দের আওয়াজ তখন বড় করুন মনে হয়।

এই অদ্ভূদ এবং চিরচেনা বিষয়ের অবতারনা করলাম এই কারণে আজকের ইউটিউব এবং সংবাদ পত্র যখন ভিজিট করছিলাম, তখন সিলেটের একটি আলোচনা সভায় আমাদের গুণধর মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর সাংবাদিকদের উপর অশ্লীল কিছু মন্তব্যে চোখ আটকে যায়। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিলো। ভাবলাম সংবাদটা হয়তো কেউ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই মন্ত্রীর বক্তব্য ঘুরিয়ে করেছে। না দেখলাম সব কটা সংবাদ পত্রেরই সংবাদ প্রায় একই। এমনকি ইত্তেফাক ও সরকার সমর্থক আরো কিছু পত্র পত্রিকা ও অনলাইনেও একই সংবাদ। ইউটিউবে যখন শুনছিলাম, তখনো বিশ্বাস হচ্ছিলোনা বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য মন্ত্রী এমন কাজ করেছেন বা করতে পারেন। আজকালতো কতো নেতা পাতি নেতা মন্ত্রী সন্ত্রাসী সবাই সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন।কেউ কেউ যে ইচ্ছে করে মন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী সংবাদ করেননা, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই বলে এই কেউ কেউ কিংবা কারো কারো জন্য গোটা সাংবাদিক সমাজকে এরকম অশ্লীল ও জঘন্য ভাষায় তাচ্ছিল্য করে প্রকাশ্যে গণ-মাধ্যমে বক্তৃতা এর আগে খুব কমই দিয়েছেন। কম বলছি এই কারণে অন্তত ক্ষমতায় থেকে এমন অশ্লীলভাবে আর কারো নাম এমন করে আসেনি। অবশ্য তাহের বাহিনী, জয়নাল হাজারীর বিভিন্ন ক্লাস বাহিনীর কথা আলাদা। ওরাতো আওয়ামীলীগের আমলের একেক এসেট হয়ে আছেন সন্ত্রাস আর দাঙ্গাবাজির ইতিহাসে।

মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী এবং বক্তৃতা দেয়ার সময় তিনি তার সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তির তথা প্রধানমন্ত্রীর নাম সদম্ভে উচ্চারণ করে বলেছেন শেখ হাসিনা তাকে বলেছেন চালিয়ে যেতে। সংবাদ পত্রে এবং ইউটিউবের বক্তব্যে মন্ত্রীর নিজের মুখে প্রকাশিত হয়েছে। এই যখন অবস্থা- তখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তা ব্যক্তি কি করে সাপোর্ট করে তার জঘন্য অরুচীকর ও অস্বাস্থ্যকর বক্তব্য আর দাম্ভিকতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন- ভেবে অবাক হই। অথচ বঙ্গবন্ধুর কন্যা টেলিভিশন সংবাদ ও সম্প্রতি লন্ডনের সংবাদ সম্মেলনে তার সরকারের নানা দিক তুলে ধরে বলে থাকেন, তার কাছে কোন অন্যায়কারীর প্রশ্রয় হয়না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার দেয়া বক্তব্য আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলছি, যদি তাই হয়- তাহলে এখনি এরকম একজন অসুস্থ্য বদ্ধ মাতাল লোককে সরকারের দায়িত্বশীল পদ থেকে বিদায় দিন। একজন অসুস্থ্য লোকের কর্মকাণ্ডের জন্য আপনার সরকার কেন দায়ভার নিবে। সমাজ সংসারে হয়তো কিছুক্ষণ ভাঁড় লোকের জন্য আনন্দ নেয়া যায়- তবে সেটা সাময়িক, দীর্ঘস্থায়ী আনন্দ দেয়ার জন্য নয়। আর রাষ্ট্রের এতো বড় দায়িত্বে থেকে হাজারো বিনোদনের মাধ্যম থাকা অবস্থায় মন্ত্রীর মর্যাদায় একজনের কাছ থেকে বিনোদন দেয়ার কাজের ভার নিশ্চয় রাষ্ট্র তাকে দেয়নি কিংবা জরুরী মনে করেও না।

একসময় এই সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন অত্যন্ত ধনাঢ্য ব্যক্তি। বাবার একমাত্র ছেলে হিসেবে পৈত্রিক সূত্রে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হন।তবে বাউন্ডেলপনা আর অরাজনৈতিক খাম খেয়ালিপনার এবং সেই সাথে মদের নেশায় ডুবে থেকে বিশাল সম্পত্তি বলতে গেলে প্রায় শেষ করেই ফেলেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তার রাজনীতির প্রতি এতো দরদের খেসারত স্বরূপ পুরস্কার হিসেবে মন্ত্রী বানিয়েছেন- আশার কথা ছিলো সৈয়দ মহসিন আলী জনগণের নেতা কখনো এমন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করবেননা।তিনি বুঝেই গেছেন, গালি দিলাম, তারপর ক্ষমা চাইলাম-ভুল হয়ে গেছে, আবারো ইচ্ছামতো গালি দেবো-এ যেন গা সওয়া হয়ে গেছে।এভাবে আর কতো ? কিন্তু বাঙালি শ্রেণী চরিত্রই বড় শংকর- ক্ষমতা প্রতিপত্তি একজন সাধারণকেও করে তুলে অসাধারণ। আর মন্ত্রী হলেতো পোয়া ভারি।যায় কোথায়- ক্ষমতা আর দাপট না দেখালে কি চলে। তাই বলে প্রকাশ্যে একেবারে ছেলে বুড়ো বুড়ি আর শিশুদের সামনে খিস্তি খেঁউড় করতে হবে নাকি ? সৈয়দ মহসিন আলী বহু যুগ থেকেইতো চা বাগানের ঐ রাতের রঙ্গিন নেশার পানির সাথে পরিচিত- খিস্তি খেঁউড়ের জায়গা এতো কিছু থাকতে প্রকাশ্য জনসভা বেচে নিলেন কেন। নাকি মন্ত্রী একেবারেই অসুস্থ্য একজন মানুষ- যিনি স্থান কাল পাত্র বুঝতে অক্ষম। কিন্তু উনার সাইজ করা আর গুষ্টি শুদ্ধ উদ্ধারের কথা শুনেতো মনে হয়না- তিনি অসুস্থ্য । রাষ্ট্রের একেবারে উপর মহল থেকে কি এরকম একজন মাতাল মন্ত্রীকে দিয়ে সাংবাদিক ও সুধী-জনকে এবং টকশো-ওয়ালা আর বিরোধীদলের কাছে ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দেয়ার ম্যাসেজ পৌঁছানোর পরিকল্পিত কাজ তাহলে করানো হচ্ছে । আমরা এরকম কোন ধারণা করতে চাইনা। তবে এরকম একজন অসুস্থ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়া হয়- তবে ধরেই নিতে হবে মন্ত্রী উপর মহলের নির্দেশেই প্রি-প্ল্যান মোতাবেক এমন আবোল তাবোলের আড়ালে সাইজ করার সূক্ষ্ম ম্যাসেজ সযত্নে দিয়ে চলেছেন- যা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত বৈ আর কিছু নয়।



মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং সৈয়দ বংশীয় লোক। এরকম একজন নেতা অবশ্যই সকল মহলের জন্য নমস্য এবং পূজনীয়।যেখানে খেটে খাওয়া গরীব অসহায় দুঃস্থদের জন্য নির্ভরতার স্থান হওয়ার কথা একজন মন্ত্রী মহসিন আলীর- সেখানে হয়ে আছেন তিনি এখন সকল মহলের বিরুপ সমালোচনার ও সরকারের জন্য গলার কাঁটা।আওয়ামীলীগের বহু জঞ্জাল আর কেলেঙ্কারির সর্বশেষ গন-বিস্ফোরণ এই সৈয়দ মহসিন আলী হউন-মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষের কেউই চাননা।



লন্ডন ১০ আগস্ট ২০১৪ ।