লাশের ছাইয়ের দুইশত পট ১৯৫০ সাল থেকে-কেউ নিতে আসেনি
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ , শনিবার, আগস্ট ০৯, ২০১৪


লাশের ছাইয়ের দুইশত পট ১৯৫০ সাল থেকে-কেউ নিতে আসেনি

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ

একজন ফোনারেল ডাইরেক্টর জানিয়েছেন, তার কাছে ১৯৫০ সাল থেকে বহু বছরের পুরনো ২০০ পট বাক্সবন্দী করে রাখা সেই সব প্রিয়জনদের সৎকার করার পরে মৃতদেহের ছাই বা আঁশ, যা এখন পর্যন্ত কেউ দাবীও করেননি, নিতেও আসেননি।
তাসমানিয়ার ফোনারেল ডাইরেক্টর টার্ণবল ফ্যামিলি সার্ভিসের কাছে এই রকম ছাই পটের মধ্যে জমা রয়েছে- যা তিনি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

টার্ণবল জানালেন, মানুষের জীবন যাপন প্রণালী এতো ব্যস্ততার মধ্যে যাচ্ছে যে, নিজের সব চাইতে প্রিয়জনের শেষ কৃত্যানুষ্ঠানের পর লাশের ছাই নেয়ার জন্যে আর কেউ নিতে আসেন না। টার্ণবল বলেন, তিনি জানেননা এখন এই সব লাশের ছাই দিয়ে তিনি কি করবেন বা কিভাবে ম্যাল্ট করবেন।

তাসমানিয়ার ফোনারেল আইনে বলা আছে লাশ জ্বালানোর পর ১২ মাস পর্যন্ত লাশের ছাই সুরক্ষা করতে হবে যাতে তার প্রিয়জন এসে নিয়ে যান। সাধারণত: লাশ জ্বালানোর পর পরই উপস্থিত অনেকেই ছাই নিয়ে যান।

টার্ণবল জানালেন, আইনে বলা নাই রক্ষিত ও আন-ক্লেইমড ছাই এখন তিনি কিভাবে নিঃশেষ করবেন।
গত বছর একজন মহিলা এসেছিলেন তার কাছে, ১৯৬০ সালে তার ছেলের লাশের সৎকার তারা করেছিলেন, সেই লাশের আশ নেয়ার জন্য।

টার্ণবলের এক বন্ধু তাকে পরামর্শ দিয়েছেন দীর্ঘ সময়ের পুরনো সেই সব ছাইয়ের পটে আইস ভর্তি করে সমুদ্রে ফেলে দেয়ার জনুয়ে যাতে আইসে ম্যাল্ট হয়ে সমুদ্রে তলিয়ে যাবে।

তারপরও টার্ণবলের ধারণা প্রিয়জনদের কথা মনে করে হয়তো কেউ না কেউ ফিরে আসবে সেই সব ছাই নিতে- সেজন্যে তিনি প্রতীক্ষার প্রহর গুণে প্রহরা দিয়ে চলেছেন।