১০ বছর স্বামী স্ত্রী হিসেবে থাকার পর তারা জানলো তারা ভাইবোন
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ , শনিবার, আগস্ট ০৯, ২০১৪


১০ বছর স্বামী স্ত্রী হিসেবে থাকার পর তারা জানলো তারা ভাইবোন

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ

একসাথে দুজন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দশ বছর ধরে সুখী জীবন যাপন করছেন।তাদের সংসারে ৬ বছর বয়সী এক শিশু কন্যাও রয়েছে।অথচ হঠাত করে রেডিওর এক লাইভ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্রোতার টেলিফোনের জবাবে জানতে পারলেন স্বামী স্ত্রী হিসেবে থাকছেন তারা দুজন আসলে জেনেটিক্যালি ভাই ও বোন।

গত দুদিন আগে রেডিও ব্রাজিলের এক এনসেস্ট্রি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আন্ড্রিয়ানা (৩৯)ও তার স্বামী লিওনার্ডো (৩৭) জানতে পারলেন তারা উভয়েই ভাই ও বোন। আন্ড্রিয়ানা রেডিও ব্রাজিলে হারিয়ে যাওয়া পিতা মাতার সন্তানদের এক অনুষ্ঠান করছিলেন। অনুষ্ঠানে মারিয়া নামের মহিলার টেলিফোনে জানতে পারলেন তিনিও তার সন্তানদের খুজতেছেন।

টেলিফোনের সূত্রে মারিয়া জানতে পারলেন, আন্ড্রিয়ানা ও লিওনার্দো ব্রাজিলের সেন্ট পাওলোতে বসবাস করছেন। তারাও তাদের পিতা মাতাকে খুঁজছেন। অনুষ্ঠানের ফোন কলের মাধ্যমে জানতে পারলেন মারিয়া নামের মহিলা আন্ড্রিয়ানার বয়স যখন আট তখন থেকেই তিনি তার স্টেপ ফাদারের মাধ্যমে লালিত পালিত হন, একই অবস্থা- প্রায় চিত্র একই লিওনার্ডোরও। মারিয়া অনুষ্ঠানে জানান তিনি তার সন্তানদের দীর্ঘদিন ধরেই খুঁজছেন।

আন্ড্রিয়ানা অনুষ্ঠানে জানান তিনি মারিয়া নামের এক মহিলাকে চেনেন, লিওনার্ডোও একজন মারিয়াকে চেনেন এবং কাকতালিয়ভাবে তাদের দুজনের চেনা মারিয়াই আসলেই তাদের মা।

এই যখন অবস্থা, তখনি আন্ড্রিয়ানা জানালেন, তারা কখনো জানতেননা একে অন্যের মধ্যে জেনেটিক্যালি সম্পর্ক রয়েছে। একে অপরকে ভীষণভাবে ভালোবাসেন। তাদের সম্পর্ক বিশ্বাস ও ভালোবাসার উপর প্রতিষ্ঠিত।

রেডিও সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে আন্ড্রিয়ানা জানান, এখন তার কি করা উচিৎ- এই মুহূর্তে তিনি তা ভাবছেননা। তিনি পরিবারের ও বন্ধুদের সকলকে নিয়ে বসবেন। কেননা তিনি লিওনার্ডোকে ত্যাগ করতে পারবেননা, সংসারও ভাঙ্গতে পারবেননা।কারণ তারা একে অপরকে ভীষণ ভালোবাসেন।

আন্ড্রিয়ানা জানালেন, তারা জানেন এখন এই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখলে অনেক কথা ও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।কিন্তু তাদের মধ্যে যখন সম্পর্ক হয় তখন তারা একে অন্যের সম্পর্কে অবহিত ছিলেননা।

রেডিও স্রোতার প্রশ্নের জবাবে জানান, মারিয়া ব্রাজিলে কমন নেইম, সেকারণে তারা যে মারিয়াকে চেনতেন, তাদের ধারণা ছিলোনা মারিয়া তাদের মা।

এই রকম অকল্পনীয় ও অসম্ভব সম্পর্ক আবিষ্কৃত হওয়ার পরে কাপলদের মধ্যে যে যন্ত্রণা ও বিরূপ অবস্থা দেখা দেয়, সেজন্যে কাউন্সিলিং এবং হারিয়ে যাওয়াদের খুঁজে একত্রিত করা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে জিএসএ নামক এক সংগঠন। এরা মূলত পয়সার বিনিময়ে কাজ করে এবং কাউন্সিলিং থেরাপি সহ সর্বাত্মক সহযোগিতা করে থাকে। ২০০৩ সালে এধরনের পোস্ট এডপশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার পর বিশ্বব্যাপী তাদের ৩০০০০ ক্লায়েন্ট রয়েছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন তাদের গবেষণাতে এরকম অসাধারণ এক কাকতালিয় সম্পর্কের বেশ কিছু দৃষ্টান্তও খুঁজে পেয়েছে।

আন্ড্রিয়ানা লিওনার্ডোর মতো স্বামী-স্ত্রী কে তাদের হারিয়ে যাওয়া মা বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ যদিও জিএসএ করে থাকে, তথাপি আন্ড্রিয়ানা ও লিওনার্ডোর মতো একেবারে ব্যতিক্রম সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ কাপলের ব্যাপারে জিএসএ বায়োলজিক্যাল ও সাইকোলজিক্যাল ওয়েতে কাউন্সিলিংও করে থাকে বলে ওয়েব সূত্রে জানা গেলো।

এর আগে ২০০০ সালে সেরেনা ও লুকাক নামক স্বামী স্ত্রীও এমনিভাবে জানা গিয়েছিলো কাপল হলেও সম্পর্কে তারা ভাই বোন-যা তাদের শুরুতে ছিলো অজানা।

ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়া বিশ্বের প্রায় সকল প্রান্তেই জন্মের পর মা বারা মধ্যে সেপারেশন, ডিভোর্স, ইত্যাদি নানাবিধ কারণে সন্তান সন্তুতি কখনো গ্র্যান্ড পেরেন্টস, কখনো সৎ বাবা বা সৎ মা কিংবা ফস্টার পেরেন্টসদ্বারা লালিত পালিত হয়ে বয়ঃসন্ধিকালে অন্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।