ওয়ার্কিং ক্লাস সাঈদা ওয়ার্সির ট্র্যাজেডি নিজের এম্বিশান বুঝতে অক্ষম-পিয়ার্স
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ , বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৭, ২০১৪


ওয়ার্কিং ক্লাস সাঈদা ওয়ার্সির ট্র্যাজেডি নিজের এম্বিশান বুঝতে অক্ষম

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ
@tweet1689


ডেইলি মেইলে অ্যান্ড্রো পিয়ার্সেররিপোর্ট
গাজা-ইসরায়েল ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের নীতির সাথে একমত হতে না পেরে ক্ষোভে দুঃখে প্যালেস্টাইনের জনগনের সাথে তথা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারবাদী সকল মুসলিম অমুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে ডেভিড ক্যামেরনের সব চাইতে পছন্দের সাঈদা ওয়ার্সি পদত্যাগ করে তাক লাগিয়ে দেন। সকলের নজর এখন সাঈদা ওয়ার্সির দিকে। আসলেই কি সাঈদা ওয়ার্সি বিশ্ব মিডিয়ার লাইম লাইটে এসে প্যালেস্টাইনের জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ নাকি ঘটনার পেছনে আরো কোন উদ্দেশ্য লুকায়িত- ব্যারোনেস ওয়ার্সির জীবন চারিতার উপর পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোকপাত করে ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যান্ড্রো পিয়ার্স ডেইলী মেইলে নজর কাড়া এক প্রতিবেদন লিখেছেন, যার সরল ভাষান্তর করে পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।


পিয়ার্স তার প্রতিবেদন শুরু করেছেন এই ভাবে, সাঈদা ওয়ার্সি পদত্যাগের একদিন আগে বিশ্ব যুদ্ধের ওয়ার হিরোস বিশেষত সাবেক ফরেন সেক্রেটারি লর্ড গ্রের সম্মানে ডেভিড ক্যামেরনের সাথে ক্যান্ডেল প্রজ্বলনে ওয়েস্ট মিনিস্টার আবেতে আনুষ্ঠানিকভাবে এক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করেন- অথচ তার একদিন পরে ক্যামেরনের পছন্দের এই নারী ব্যারোনেস অসূয়া ও অবিশ্বস্ততার সাথে এমন এক সময় পদত্যাগ করেছেন, সরকারের জন্য সেটা মোটেই সঠিক সময় নিরূপণের নয়।


পিয়ার্স লিখেছেন, ওয়ার হিরোদের সম্মানে প্রজ্বলিত আলোক বর্তিকা যা সারা ইউরোপে ছড়িয়ে দেয়া হবে- তা প্রজ্বলন করে পরের দিনই নাটকীয়ভাবে কোন আলোচনা না করেই সিনিয়র ফরেন অফিসিয়াল পদত্যাগ করেন এবং টুইটের মাধ্যমে তার পদত্যাগ পত্রও প্রকাশ করেন।

পিয়ার্স লিখেছেন- একজন পাকিস্তানী ইমিগ্র্যান্ট মহিলা যখন তার প্রথম কেবিনেট মিটিংযে আসেন, তখন পিঙ্ক এবং গোল্ড কালারের স্যালোয়ার-কামিজ পরিধান করে এসেছিলেন, তিনি জানতেন তার চাইতে আরো বেশী প্রতিক্রিয়া ও শো-আপ হবে তার পদত্যাগ পত্রে বিশেষত কিছুক্ষণ আগেও তিনি ডাচেস অব কর্নওয়ালের সাথে আবেতে মিলিত হয়ে এসেছিলেন।


পিয়ার্স আরো লিখেছেন, তিনি যদি সত্যি সত্যি বিশ্বাস করতেন, প্রাইম মিনিস্টারের ইসরায়েল ইস্যুতে আরো জোরালো বক্তব্য দেওয়া উচিত ছিলো, তাহলে তার ফেলে যাওয়া পেছনের কর্মজীবনের দিকে তাকালে সেই বিশ্বাসের ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঁকি দিয়ে যায়।


কেননা পিয়ার্স জোরালো ভাবে লিখেছেন ক্যামেরনের গত ক্যাবিনেট রি-শাফলের সময় উচ্চাভিলাষী ওয়ার্সির আশা ছিলো প্রমোশনের। ওয়ার্সির আশা ছিলো ডেভিড হয়তো তাকে মিঃ হগের স্থলাভিষিক্ত করবেন।


কিন্তু ডেভিড ক্যামেরন তাকে প্রমোশন দেননি বরং তার সিনিয়র সহকর্মীরা সাঈদা ওয়ার্সিকে (সাক)বাদ দেয়ার কথা বলেছিলেন।


পিয়ার্স লিখেছেন, সাঈদা ওয়ার্সি ব্রিটিশ ল্যাঙ্গুয়েজে তার পদত্যাগ পত্র যখন লিখেন, তখন মূলত ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সিজ ফায়ারে সম্মত হয়ে গেছে- এমতাবস্থায় মনেই হয় সরকারের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতাই মুখ্য উদ্দেশ্য, ডেভিড ক্যামেরনের ইমেজ সর্বোচ্চ ভাবে ক্ষতিসাধন- যার প্রতি তার সামান্যতম রেসপেক্ট নেই।যার ফলে টুইটারে তার রেসিগনেশন লেটার প্রকাশ করেন।


এই পর্যায়ে পিয়ার্স এসে মন্তব্য করেছেন, এই পর্যায়ে পলিটিকাল মেস সম্পূর্ণই ডেভিড ক্যামেরনের দায়, কেননা তিনিই ওয়ার্সীকে চয়েস করে কেবিনেটে নিয়ে আসেন প্রমোশন দিয়ে, এমনকি জেনারেল ইলেকশনে টোরি পার্টি জেতার পর তাকে পার্টির চেয়ারম্যান করেন ক্যামেরন- যা সাধারণত: অতি গুরুত্বপূর্ণ এক রাজনৈতিক পদ ও দায়িত্ব। অথচ পূর্ব কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই কেবলমাত্র মুসলিম ও এথিনিসিটি অজুহাতে ক্যামেরন তাকে এই পদে বহাল করেন ও প্রমোশন দিতে থাকেন।


পিয়ার্স মন্তব্য করে লিখেছেন মিডল এইজ এটন-এডুকেটেড ক্যামেরনের জন্য পারফেক্ট এন্টিডোজ হলেন ওয়ার্কিং ক্লাস, কম্প্রিহেনসিভ শিক্ষা প্রাপ্ত ব্রড ইয়র্কশায়ার আক্সেন্ট এই সাঈদা ওয়ার্সী যিনি পলিটিক্যালি সব পজিটিভ বক্সেই ঠিক চিহ্ন দিয়েছিলেন।


পিয়ার্স আরো লিখেছেন, লিডস ইউনিভার্সিটি থেকে ল-গ্র্যাজুয়েট সলিসিটর ওয়ার্সির কোন কালেই টোরি পার্টির চেয়ারম্যান বা কেবিনেট মেম্বার এর পূর্ব অভিজ্ঞতা কিংবা এমপি না হয়েও ক্যামেরন কেবলমাত্র মুসলিম হিসেবেই তাকে পিক করেন। ২০০৫ সালে ডিউজবারিতে উইনিং সিটে প্রতিযোগিতা করেও লেবারের কাছে ভোটের ব্যবধানে তিনি হেরে যান।অথচ ক্যামেরন তাকে কেবিনেটে নিয়ে আসেন, ২০০৭ সালে শ্যাডো মিনিস্টার এবং পরে ব্যারোনেস করে নেন দ্রুতভাবে। রিসেন্ট এক সার্ভেতে জানা গেছে, পাকিস্তানী ভোটার নয় বরং ইন্ডিয়ান ভোটাররাই বেশীরভাগ ভোট টোরি পার্টিকে দেয়।এটাও তার কৃতিত্বের মধ্যে নেই।


ওয়ার্সি দাবী করেন তিনটি আসনের এশিয়ান কমিউনিটির মধ্যে ভোট জালিয়াতির অথচ সেই আসনের স্পেসিফিক নাম বলতে তিনি ব্যর্থ হন।


পিয়ার্স এই জায়গায় এসে বোম ফাটালেন, মন্তব্য করেছেন ওয়ার্সি এক প্রাইভেট ডিনার পার্টিতে আরো অধিক মুসলিম এমপি পার্লামেন্টে আসার বিরোধিতা করেন এই বলে যে, মুসলমানদের কোন প্রিন্সিপাল বা মূল্যবোধ নেই- এই মন্তব্য প্রকাশের পর পরই সাঈদা ওয়ার্সি বলেন তিনি সেই ডিনার পার্টিতে উর্দুতে আলোচনা করেছেন, যার ভুল অনুবাদ করা হয়েছে মিডিয়ায়।


টোরি চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি কখনো মিডিয়া ও মাইক্রোফোনের সামনে যাননি বিতর্কের ভয়ে। তার সময়ে টোরি পার্টির ডোনার ও ফান্ড রেইজিং ফ্লপ হয়ে গিয়েছিলো।

পিয়ার্স লিখেছেন ২০১২ সালের কেবিনেট রি-শাফলের সময়েই ওয়ার্সিকে সাক করা উচিৎ ছিলো কিন্তু ক্যামেরন তার কেবিনেটে একমাত্র মুসলিম এবং মহিলা মুসলিম মেম্বার ফ্রন্ট বেঞ্চে রেখে তার ক্যারিশ ম্যাটিক রাজনীতির বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলেন।


পিয়ার্স লিখেছেন, সিনিয়র ফরেন অফিস অফিসিয়াল পদটি মূলত তার জন্যই তৈরি করা হয়েছিলো- অথচ সেই পদ তৈরির এক সপ্তাহ পরেই ডাউনিং ষ্ট্রীট লজ্জার মধ্যে পড়ে যায়, যখন ওয়ার্সি মিটিং এ ইসলামোফোবিয়া ডিনার টেবিল টেস্ট পাস করেছে বলে মন্তব্য করে বসেন।এমনকি ওয়ার্সি বিএনপি ও চ্যাটারিং করতে পছন্দ রাজনীতিবিদ ও টেলিভিশন শোতে উপস্থিত হয়ে ফ্রন্ট পেইজ নেয়ার কাজই বলে দেয় রাজনীতির বর্তমান এটন-মেস অবস্থা।


পিয়ার্স জানিয়েছেন, ৪৩ বছর বয়স্কা সাঈদা হোসেন ওয়ার্সি পাকিস্তানি মুসলিম পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। তার পিতা ১৯৭১ সালে একজন মিল শ্রমিক হিসেবে ব্রিটেনে আসেন, পরে বাস ড্রাইভারের চাকুরী করেন, পর ইন্সট্রাকটর হয়ে কোম্পানি রিটায়ার্ডের সময় তার পিতার টার্ণ ওভার ছিলো ২মিলিয়ন পাউন্ড।


পিয়ার্স লিখেছেন, সাঈদা ওয়ার্সি যখন ১৯ বছরের তখন তার পাকিস্তানি পিতা তার এরাঞ্জ ম্যারিজের ব্যবস্থা করেন ইফতেখার আজম নামের পাকিস্তানি তার এক কাজিনের সাথে। এখানে তার ১৫ বছরের এক মেয়ে রয়েছে। ২০০৭ সালে ওয়ার্সি ডিভোর্সি হন।


পিয়ার্স আরো লিখেছেন, ইফতেখার আজমের সাথে তার ডিভোর্সের সময়, তার পক্ষের পরিবারের মহিলা দাবী করেন, ওয়ার্সি যখন ডিভোর্স ডিক্রি নিসি ডকুমেন্টে সাইন করেন, তখন তিনি মনে করেছিলেন গ্যাস বিলের কাগজে তিনি সাইন করছেন, অথচ আফসোসের বিষয় তিনিই দাবী করেন মাল্টি ফেইথ ভ্যাল্যু প্রতিনিধিত্ব করছেন টোরি পার্টিতে।

পিয়ার্স লিখেছেন, ওয়ার্সি বিশ্বাস করেন ফরেন নাগরিক যারা ব্রিটেনে আসতে চায় তাদের ইংলিশ জানা উচিৎ ব্রিটেনে আসার আগে, যদিও তিনি সরকারের হার্টের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাস প্রথমে থাকা উচিৎ বলে মনে করেন।


অথচ ২০১২ সালের সামারে অভার নাইট একোমোডেশনের জন্য পার্লামেন্টারি এক্সপেন্স নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে।যদিও তিনি এপোলোজি দিতে বাধ্য হয়েছিলেন, তারপরেও এ নিয়ে তার ইমেজ পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়নি।


আজকে ক্যামেরনকে তার একমাত্র মুসলিম মহিলা কেবিনেটের মেম্বারের জন্য রাজনীতিতে সব চাইতে বড় বিশৃঙ্খলা আর বিগত সময়ে ওয়ার্সীকে সাক না করার জন্য হাড়ে হাড়ে অনুতপ্ত হচ্ছেন। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে পিয়ার্স লিখেছেন, পদত্যাগের চাইতেও আরো বড় ক্ষতির সম্মুখীন ক্যামেরনকে করবেন সাঈদা ওয়ার্সী- কেননা ওয়ার্সী যাওয়ার সময় ডায়রি নিয়ে গেছেন,যা নির্বাচনের সময় লেবারের সাথে তার কন্টাক্টের সন্দেহ উড়িয়ে দেয়া যায়না। ক্যামেরনের এই ব্যারোনেস লেডির জন্য হয়তো আরো এমব্রাসিং অবস্থা অপেক্ষা করছে সামনে।



salim932@googlemail.com
07th August 2014, London.