সুব্রত`র জন্য ৩ সেক্রেটারি, এয়ারকন্ডিশন আর ভিডিও কনফারেন্সের অনুমোদন করলো সুপ্রীম কোর্ট
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ , সোমবার, আগস্ট ০৪, ২০১৪


সুব্রত`র জন্য ৩ সেক্রেটারি, এয়ারকন্ডিশন আর ভিডিও কনফারেন্সের অনুমোদন করলো সুপ্রীম কোর্ট

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ

ভারতের বিখ্যাত সাহারা গ্রুপের কর্ণধার সুব্রতের বেইলের আবেদন বার বার ভারতীয় কোর্টে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর গতকাল সুপ্রিম কোর্ট সুব্রতের জন্যে ফুল ভিডিও কনফারেন্স এবং কনফারেন্স রুম ফ্যাসিলিটি, তিনজন সেক্রেটারিয়েট স্টাফ, প্রাইভেট ল্যাভরেটরি, এয়ারকন্ডিশান রুম গ্র্যান্ট করেছেন।

ইতিপূর্বে সুব্রত তার বেইলের জন্য ২.৩বিলিয়ন সিকিউরিটি এরাঞ্জম্যান্ট করার জন্য জেলের পরিবর্তে হাউস এরেস্ট এর আবেদন কোর্ট প্রত্যাখান করেন। তারপর সুব্রত আইনজীবী প্যানেল জেলের ভিতরে এয়ার কন্ডিশন রুমের ব্যবস্থার আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেন আদালত।এরপর গত মাসে প্যারোলে মুক্তির আবেদনও আদালত প্রত্যাখ্যান করেন।

অথচ গতকাল সুপ্রীম কোর্ট সুব্রতের আবেদনে তাকে উপরোক্ত সকল সুবিধা প্রদান করেছেন এবং আগামী দশ দিনের মধ্যে জামিনের ২.৫ বিলিয়ন আয়োজন করার আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালতে সুব্রত জানান, লন্ডনে তার গ্রসভেনর হাউসের হোটেল, নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেল সমেত ৯৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বিক্রি করে তার জামিন মঞ্জুর সিকিউর করার জন্য তার এতোগুলো ফ্যাসিলিটি দরকার, এমনকি প্রাইভেট ল্যাভরেটরীও- যা আদালত মঞ্জুর করেছেন।

সুব্রতের সাথে তার আরো দুজন সহযোগীকেও পাশের রুমে থেকে সহযোগিতার এবং রাতের বেলা তাদের ফ্রি ভাবে জেলের মধ্যে চলাফেরার সুযোগ দিয়েছেন।

সুব্রতের আইনজীবী হ্যারিশ স্লাভ বলেন, আদালতকে তারা জানিয়েছিলেন, লন্ডন ও নিউ ইয়র্কের প্রোপার্টি বিক্রি করে সিকিউরড কৃত ৯৫০ মিলিয়ন পাউন্ড সুব্রত জেলের মধ্যে রেখে বিক্রি করা সম্ভব নয়, সেজন্য প্যারোল চেয়েছিলেন। আদালত বিকল্প প্রস্তাব জানতে চাইলে তারা এতো সব ফ্যাসিলিটির আবেদন জানালে কোর্ট তা মঞ্জুর করেছেন।

সুব্রত এখন জেলের মধ্যে থেকে ৫২ ইঞ্চি টেলিভিশনের স্ক্রিনে ৩০ফিট বাই ১৮ফিট ভিডিও কনফারেন্স রুম, এয়ার কন্ডিশনিং রুম, তিন সেক্রেটারি সহ প্রাইভেট ল্যাভরেটরি ফ্যাসিলিটি পেয়েছেন।

সাহারা গ্রুপের টোটাল এসেটের মধ্যে ৬.৬বিলিয়ন সম্পদ যা বৈধতা নিয়ে ভারতীয় আদালতে মামলা চলছে, সুব্রত ও তার দুই সহযোগী জেলের মধ্যে রয়েছেন, গ্রুপ ভারতের ভিতরে বন্ড, সম্পদ বিক্রি করে ২.৩বিলিয়ন আয়োজন করছে।

সাহারা গ্রুপ বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিয়েছে আদালতে দাবী করছে, অথচ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ বোর্ড বলছে তারা বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেয়নি। সাহারা গ্রুপ ফর্মুলা ওয়ান ও ভারতীয় হকি টিমেরও স্পন্সরর।গত মার্চ মাসে এর সদুত্তর না পেয়ে কোর্ট সুমন করে, পুলিশ তাদের এরেস্ট করে আদালতে হাজির করলে আদালত জামিন মঞ্জুর না করে জেলে প্রেরণ করেন।

সুব্রত লন্ডনের গ্রসভেনর হাউস হোটেল ২০১০ সালে ৪৭০মিলিয়ন পাউন্ডে খরিদ করেন, আর নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলের ৭৫% শেয়ার ৩৪৩ মিলিয়ন পাউন্ডে ২০১২ সালে ক্রয় করেন।আদালতে সুব্রত ও সাহারা জানিয়েছে লন্ডনের হোটেল বিক্রি করে তারা ৫৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহ করবে। তারা পটেনশিয়াল বায়ারদের তথ্যও আদালতে দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাইরাস প্যুনাওয়ালা, কাতারের রয়াল ফ্যামিলি এবং ব্রুনাইয়ের সুলতান। অথচ এ বছর লন্ডনের এস্টেট এজেন্ট গ্রোসভেনর হাউস হোটেলের বাজার মূল্য ৫২০ মিলিয়ন ভ্যালুয়েশন করেছেন।সাইরাস প্যুনায়ালা ৫৫৫ মিলিয়ন পাউন্ডে হোটেল খরিদ করবেন বলে সুপ্রিম কোর্টে সুব্রতর আইনিজীবি জানিয়েছেন।

রয়টার নিউজ এজেন্সি এক সংবাদ বিবরণীতে জানিয়েছে, আদালতে সুব্রতের লায়বিলিটি ৩বিলিয়নেরও উপরে। সে হিসেবে দুই হোটেল বিক্রি ও গ্রুপ সম্পদ বিক্রি করেও সম্ভব কিনা- সেটা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

টিকা- সুব্রত কেস আমাদের জন্যও শিক্ষণীয়। সম্পদের বিপরীতে অতিরিক্ত লোন আর বিনিয়োগকারীদের সম্পদ বন্ধক ইত্যাদি নানা বিষয় খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে। নাহলে সুব্রতদের মতো ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে আমাদের বিনিয়োগকারী আর ব্যবসায়ীরা সব কিছু হারিয়ে পথে বসবেন। তাই আগে ভাগেই ভাবুন ও সব খতিয়ে দেখুন।

salim932@googlemail.com
4th August 2014, London.