সোলার সুপার স্টর্ম-পৃথিবীকে কি ধ্বংস করে দিবে যেকোন মুহূর্তে ( ভিডিও) ?
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ , শনিবার, আগস্ট ০২, ২০১৪


সোলার সুপার স্টর্ম-পৃথিবীকে কি ধ্বংস করে দিবে যেকোন মুহূর্তে ?

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- যুক্তরাজ্য থেকে

যুক্তরাজ্যের বৃস্টল ইউনিভার্সিটির এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্সের উপর পিএইচডি থিসিস পেপার লেখা নিয়ে গবেষণা ব্যস্ত আসলি ডেইল।মার্স ও এয়ারক্রাফট ডিজাইন বিষয়ে অত্যধিক ইন্টারেস্ট এই তরুণ বিজ্ঞানীর।সম্প্রতি হঠাত করে ব্রিটেনের আবহাওয়ার অত্যধিক পরিবর্তন এবং মাত্রাতিরিক্ত গরম পড়ায় তরুণ এই বিজ্ঞানী তার রিসার্চ ক্ষেত্র- এক্ষেত্রেও ফোকাস করে মিডিয়ার লাইম লাইটে চলে এসেছেন। নাসা সহ বিশ্বের তাবৎ বিজ্ঞানীরাও আসলি ডেইলের আমাদের পৃথিবী নিয়ে সমূহ সম্ভাব্য গবেষণার সতর্ক বার্তা নিয়ে সর্বত্র আলোচনা এখন তুঙ্গে।

ডেইলি এক্সপ্রেসে আসলি ডেইল জানিয়েছেন, সোলার এই সুপারস্টর্ম যেভাবে ধেয়ে আসছে বা পরিবর্তিতি রূপ পরিগ্রহ ল্যাব করছে অধিকমাত্রায় তাতে পৃথিবী যেকোন সময় এর ফলে ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে যাবে।

সাইন্টিস্ট ডেইলির মতে, ইট ইজ অনলি ম্যাটার অব টাইম- এই আর্থ যেকোন সময় সোলার সুপার স্টর্মের সংঘর্ষে মারাত্মক ধ্বংস সাধিত হবে, যা হিরোশিমার পারমাণবিক বোমার ১০ বিলিয়নের চাইতেও বেশী এর ক্ষতি সাধিত হবে।

আসলি ডেইলের এমন সতর্ক বার্তার পর ক্রাইসিস মিটিং এ সোলার এই সুপার স্টর্ম ক্ষতির সম্ভাব্য অবস্থা ও ক্ষতির পরিমাণ কেমন করে এড়ানো ও কমপক্ষে যত কম করা যায়- সেই সব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাইন্টিস্টরা যা ধারণা করছেন, যদি তা ঘটে যায় তাহলে কম্যুনিকেশন, স্যানিটেশন, ওয়াটার, পাওয়ার সকল ক্ষেত্রেই মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিবে। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়বে, ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তির খাত ধ্বস নামবে, ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে, ট্রান্সপোর্ট, স্যানিটেশন, মেডিসিন ও ওয়াটার সাপ্লাই সকল ক্ষেত্রেই দুর্যোগ দেখা দিবে। তার মানে আমরা বিগত সেঞ্চুরিতে যা পেছনে ফেলে এসেছি, আবার সেই সব স্থানে ফিরে যাওয়া।কেননা, পেট্রোল ষ্টেশন বন্ধের ফলে গাড়িতে তেল নেয়া যাবেনা, এটিএম মেশিন লস হওয়ার ফলে টাকা ও অনলাইন লেনদেন হবেনা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার ফলে অন্ধকারে নিপতিত হয়ে জনজীবন দুর্বিসহ, লাইট বিদ্যুৎ না থাকা মানেই কল কারখানা অচল, ওয়াটার প্ল্যান্ট বন্ধ, স্যানিটেশন মারাত্মক আকার ধারণ ইত্যাদি। আসলি ডেইলি তার পিএইচডি রিসার্চে এমনটাই জানালেন।

বিজ্ঞানী আসলি বলছেন, ১৮৫৯ সালের প্রথম ইংলিশ এস্ট্রোনোমার রিচার্ড ক্যারিংটনের সনাক্তকৃত সোলার ডিভাষ্টেষ্টিং আবারও পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে, যা অনেক ভয়ানক হতে পারে।

বিজ্ঞানী ডেইলের মতে সোলার সুপার স্টর্ম এর ফলে পৃথিবীর প্রায় ১.৫ ট্রিলিয়ন ক্ষতি সাধিত হবে, কম্যুনিকেশন সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বসে পড়বে, আর ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যাবে।

তার মতে, এটা মাত্র শুরু। আমরা যখন টেকনোলজির উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়বো, তখন এই ধ্বস নামলে আমাদের আরো মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাবে, যা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এর সম্ভাবনা প্রচুর।

ফিজিক্স জার্নালেও বিজ্ঞানী ডেইল তার এই মতামত ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি এর সিরিয়াস ইমপ্যাক্ট নিয়ে অনেক খোলামেলা আলোচনাও করেছেন।তিনি লিখেছেন, প্রকৃতির পরিবর্তন আর ব্রিটিশ হট ওয়েদারের পরিবর্তনের দরুন তিনি পৃথিবীতে এর আছড়ে পড়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন এবং এর ফলে যে বিকট শব্দ শুধু নয়, এই অগ্ন্যূৎপাতের ধ্বংসাবশেষ চতুর্দিকের সকল ক্ষেত্রেই অসম্ভব ধ্বংস সাধিত হবে।

তবে নাসার মতে রিচার্ড ক্যারিংটনের সেই সোলার স্টর্ম সাধারণত: প্রতি ১৫০ বছরে ঘটে থাকে এবং সেই হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে সেটা হবে বলে নাসা মনে করছে।

অপরদিকে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস ইউনিভার্সিটি ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা বলছেন অগ্রিম আবহাওয়ার সংবাদ ও তথ্য প্রদান সবচাইতে বেস্ট সলিউশন।

অর্থাৎ তাদের মতে, অন্তত: এক সপ্তাহ আগে তথ্য জানিয়ে দিলে কোথায়, কখন সোলার সুপার স্টর্ম সংগঠিত হবে- এমন তথ্য পৃথিবীর জনগণকে জানিয়ে দিলে আগে ভাগেই সকল লাইন সুইচ অফ করে রাখা যাবে, স্যাটেলাইট রি-ওরিয়েন্টেড স্পেস কে পৃথিবীতে গ্র্যাউন্ডেড করে রাখা যাবে। ঠিক এই জায়গায় এসে আসলি ডেইলও মনে করছেন, স্টার কিংবা মার্স ইত্যাদিকে আমরা কোন কালেই পুরোপুরি আয়ত্বে নিতে পারবোনা। এখানেই আমাদের সবচাইতে বড় জিঘাংসা। তবে আমরা আমাদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা আর বিশেষায়িত জ্ঞান ও উপকরণ কাজে লাগিয়ে
সম্ভাব্য বিপদ ও বিপুল ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেতে পারি।

Salim932@googlemail.com
2nd August 2014, London.