ইরাক ক্রাইসিস: উই আর রেডি টু হেল্প- ওবামাকে হাসান রৌহানি
সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ , শনিবার, জুন ১৪, ২০১৪


ইরাক ক্রাইসিস: উই আর রেডি টু হেল্প- ওবামাকে হাসান রৌহানি

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- যুক্তরাজ্য থেকে

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রৌহানি বলেছেন, তার দেশ ইরাকে সুন্নী মুসলমানদের দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধের বিরুদ্ধে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

প্রেসিডেন্ট রৌহানি তার বিজয়ের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, তার দেশ ইরাকী সরকারের বিরুদ্ধে এক্সট্রিমিস্ট সুন্নী মুসলমান ও দ্য লিভান্ট ( আইএসআই) এর বিরুদ্ধে ইরানী সহায়তা দিতে প্রস্তুত, যারা ইরাককে কট্রর ইসলামিক রাষ্ট্র বানানোর ঘোষণা দিয়ে গত সপ্তাহেই দেশটির অনেক অংশ দখলে নিয়েছে, অসংখ্য মানুষ সেই সব এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। ২০১৩ সালে রৌহানী এক নির্বাচনী বিজয়ে প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হন।

রৌহানি আরো বলেন, ইরাকী সরকার যদি আমাদের কাছে কোন সাহায্য চান , তবে আমরা সাহায্য দিতে প্রস্তুত এবং আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো।

এ সময় সাংবাদিকেরা প্রেসিডেন্ট রৌহানিকে ইরাক ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ওবামার সাথে কাজ করতে প্রস্তুত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, সকল দেশগুলিকেই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক হয়ে যুদ্ধে লড়তে হবে।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইরাকের সরকার টেরোরিজমের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত। আমরা আমেরিকাকে এখনো এই ব্যাপারে খুব একটা তৎপর হতে দেখছিনা। আমেরিকা যদি এই টেরোরিজমের বিরুদ্ধে কোন একশন নেয়, ইরান অবশ্যই টেরোরিজমের বিরুদ্ধে একশন কনসিডার করবে।

উল্লেখ্য সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর বৃহত্তর শিয়া ইরানীদের সাথে ইরাকের শিয়াদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়, যারা ক্ষমতায় আসে সাদ্দামের পতনের মাধ্যমে।

সংবাদ বেরিয়েছে এই অঞ্চলে যে ইরান ইরাকে সৈন্য প্রেরণ করেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, এমন কোন কিছুই এখনো হয়নি, সৈন্য প্রেরণের বিষয়ে এখনো কোন আলোচনা হয়নি।

কট্রর ইসলামিক পন্থী শিয়া মুসলিম আইএসআই নামক সংগঠন গত বৃহস্পতিবারে ইরাকের সব চেয়ে অন্যতম বড় শহর মোসল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা হয়তো অল্পদিনের মধ্যে বাগদাদের দিকে অগ্রসর হবে। তারা ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে তারা ইরাককে ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।ইতিমধ্যে লাখ লাখ লোক মৌসল শহর ছেড়ে পালিয়েছেন।

গত শুক্রবার ইউএন মিশনের রুপার্ট কলভাইল জানিয়েছেন, ইরাক সংঘর্ষে ইতিমধ্যে অসংখ্য লোক নিহত হয়েছেন, এই সংখ্যা তার মতে হান্ড্রেস ছাড়িয়ে যেতে পারে, বহু লোক আহত হয়েছেন, আহতদের এই সংখ্যা হয়তো ১,০০০ ছাড়িয়ে যাবে।

প্রেসিডেন্ট ওবামা ইতিপূর্বেই বলেছেন, আইএসআই আমেরিকান স্বার্থের বিরুদ্ধে ইরাকে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, এবং ইরাকের এখন অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন আইএসআই এর সাথে যুদ্ধে এবং ইরাকের সিকিউরিটির প্রশ্নে।

আজকে গার্ডিয়ানকে আমেরিকার এক সিনিয়র সিনেটর জানিয়েছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকা এখন সিরিয়াসলি আলোচনা করছে পসিবল এয়ার ষ্ট্রাইকের ব্যাপারে।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিক বিশ্লেষকরা বলছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট তার বক্তৃতায় আমেরিকাকে সহায়তার প্রশ্নে বরং আমেরিকা ও ইরান এক হয়ে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি এবং একই সাথে ইরান আমেরিকার বন্ধ দোয়ার খুলে দিয়েছেন।

Salim932@googlemail.com
14th June 2014,London.