সম্ভবত গত প্রায় একশ বছরেও আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই নি-নিউইয়র্কের সেমিনারে ডঃ আলী রিয়াজ
লন্ডন-এইদেশ সংগ্রহ , রবিবার, মে ২৬, ২০১৩


বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের আর কোনো সাংবিধানিক পথ খোলা নেই। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে। ৭২ এর মূল সংবিধানে একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশের যে স্বপ্ন ছিলো এখন আর তা পূরণ হওয়ার সুযোগ নেই। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলও ধর্মকে পূঁজি করে রাজনীতি করছে। আর যতদিন সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও বোধকে রাজনীতিতে টেনে এনে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার পথ খোঁজা হবে ততদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে ধর্মীয় হানাহানি বন্ধ হবে না।
এসব বক্তব্য নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভার বক্তাদের। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা’র অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সেমিনারের মূল বক্তা ছিলেন ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক নাসিমুন নাহার নিনির সঞ্চালনায় এই সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন এখানে সফররত সাংবাদিক দৈনিক আমাদের অর্থনীতি ও আমাদের সময় ডট কম এর সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান এবং প্রবাসী বাংলাদেশি সেলিম রেজা নূর।
ড. আলী রীয়াজ তার মূল উপস্থাপনায় বলেন, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রসঙ্গটি যতটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে পরিণত হয়েছে তা এর আগে আমরা কখনোই প্রত্যক্ষ করিনি। স্বাধীন বাংলাদেশে তো নয়ই, এমনকি সম্ভবত গত প্রায় একশ বছরেও আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই নি।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কালে জামায়াতে ইসলামীর সহিংস আচরণ ও পাশাপাশি হেফাজতে ইসলাম বলে একটি সংগঠনের উত্থানের পটভূমিকায়, ভবিষ্যৎ রাজনীতির চেহারা বিষয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ধর্মভিত্তিক দলগুলো বিষয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর আপসমুখী অবস্থান রয়েছে উল্লেখ করে এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করছে। ধর্মভিত্তিক দলের আড়ালে ও নামে সহিংসতা বাড়ছে। সরকারের মধ্যে ও বিরোধী দলের মধ্যে এই সব দলকে আশু স্বার্থে ব্যবহারের জন্যে মরিয়া ভাব দেখা যাচ্ছে।
এই রাজনীতি মোকাবেলায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে জোরদার করার পক্ষে মত দিয়ে ড. আলী রিয়াজ বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিই কেবল ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে সীমিত পরিসরের মধ্যে আটকে রাখতে পারে।
নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, ধর্ম নিয়ে রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। কওমী মাদ্রাসায় যাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তাদের অর্থনৈতিক ব্যবহার থাকছে না এবং এর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে বলে মত দেন তিনি।
নাসিমুন নাহার নিনি বলেন, রাষ্ট্র ব্যবস্থা থেকে ধর্মমে আলাদা করতে না পারলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রবাসে যারা রয়েছেন তাদের ধর্মান্ধতা দূর করা প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।